এফবিসিসিআই ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায়

0
171

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন। প্রয়োজনে তাদের থেকে ঋণ আদায়ে ব্যাংকারদের সহায়তা করারও আশ্বাস দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘বিরাজমান পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জসিম উদ্দিন বলেন, শিল্পকারখানার জন্য ১৫ বছর মেয়াদি ঋণ দরকার। কিন্তু তা ব্যাংক থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে ৩০ থেকে ৩৫টি সুতার মিল হচ্ছে। এসব ঋণের মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি না হলে সব খেলাপি হয়ে পড়বে।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ‘করোনার ১৮ মাসে ব্যবসায় অনেক খারাপ সময় গেছে। প্রণোদনা তহবিল থেকে যে ঋণ পাওয়া গেছে, সেই ঋণে ৩ বছর গ্রেস পিরিয়ড দিয়ে ১০-১৫ বছরে কিস্তিতে শোধ করার সুযোগ দিলে ভালো হয়।’ এর জবাবে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়রা আজম বলেন, ‘আপনারা ঋণ পরিশোধে দীর্ঘমেয়াদি সময় চাইছেন। অথচ প্রণোদনার ঋণের মেয়াদ এক বছর। ঋণ পরিশোধে বাড়তি সময় চাইছেন, কিন্তু আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে বাড়তি সময় চাওয়া কি সম্ভব?’ রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় নিয়ে এমন একটা সভার আয়োজন করতে পারে এফবিসিসিআই। এতে সব ব্যাংকের খুব উপকার হবে।

ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সময় এসেছে যারা খারাপ গ্রাহক, তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাদের সহায়তা করে ভালো গ্রাহকে পরিণত করার এখনই সময়। এ সময়ে ব্যাংকগুলো যদি মুনাফার চিন্তা করে, তাহলে চলবে না। এখন সময় টিকে থাকার, মুনাফা করার নয়।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, প্রণোদনা ঋণ, কোনো অনুদান নয়। ঋণের টাকা সঠিক সময়ে ফেরত আনা ব্যাংকের দায়িত্ব। টাকা আদায় নিয়ন্ত্রণ সংস্থারও দায়িত্ব নয়। তাই ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই করে ঋণ দিচ্ছে। খেলাপি ঋণ পুরো খাতকে ক্ষতিতে ফেলেছে। ঋণ খারাপ হলে তা আদায় করতে ১০ বছর সময় লেগে যাচ্ছে। আমানতকারীদের থেকে তো টাকা ফেরত দিতে ১০ বছর সময় নেওয়া যাচ্ছে না। এ সময় খেলাপি ঋণ আদায়ে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা চান আলী রেজা ইফতেখার।

সভায় এবিবির সেক্রেটারি ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকের যে মুনাফা পত্রিকায় আসে, তা প্রকৃত নয়। এর থেকে কর ও প্রভিশন বাদ দিতে হয়। আর ব্যাংক মুনাফা করতে না পারলে ঋণ দিতে পারবে না। ব্যাংক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যে দেশে সব ঋণের সুদহার এক, সেখানে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার এটাও একটি কারণ। ঋণের খরচের ওপর নির্ভর করে সুদ ঠিক করা প্রয়োজন। এখন যেভাবে বিভিন্ন সেবা মাশুল নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, তাতে ব্যাংক খাতের আয় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ কমে আসবে। সভায় ৩২টি দেশি-বিদেশি ব্যাংকের এমডি উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় করোনার ক্ষতির কারণে কোনো কোনো ব্যবসায়ী নতুন করে ঋণ চান। আবার কেউ প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর পর্যন্ত সময় চান। কেউবা আবার এক কোম্পানি খেলাপি হলেও অন্য কোম্পানির জন্য ঋণ চান। অনেকে চান সব ব্যাংকের সুদহার এক হবে। আর সবার দাবি ঋণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার। আর ব্যাংকাররা চান, প্রণোদনার ঋণ যেন সময়মতো আদায় হয়। ব্যবসায়ীদের থেকে সময়মতো টাকা ফেরত চান তারা। পাশাপাশি চান খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here