দাঁতে পোকা বলতে কিছু নেই

0
47

সাধারণ মানুষ যেসব দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডেন্টিস্টদের কাছে অথবা ডেন্টাল হাসপাতালে যান সেগুলো হচ্ছে প্রথমত দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিস – মানে রোগী দাঁতের তীব্র ব্যাথা। এছাড়াও দাঁতের মধ্যে গর্ত, দাঁত শিরশির করাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে যান রোগীরা।

দাঁত ও মাড়ির সমস্যা এবং তার চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অনুপম পোদ্দার। তিনি জানিয়েছেন দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

দাঁতে ‘পোকা’ সমস্যা

এ ব্যাপারে ডা. অনুপম পোদ্দার বলেন, ডেন্টাল ক্যারিস বলতে সাধারণ জনগণ বুঝে দাঁতে পোকা; আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছুই নেই। যেটা আছে সেটাকে আমরা (চিকিৎসকরা) ব্যাক্টেরিয়া বলে থাকি। আমাদের মুখে হাজারো ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে, তার মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিস যেটা হচ্ছে দন্ত ক্ষয় রোগ – এইটার জন্যে যে ব্যাক্টেরিয়া দায়ী সেটা হলো ল্যাক্টোবেসিলাস এবং চেপলোকোকাস মিউটেন্ট। আমরা যে খাবার খাই সেই খাবারগুলোর দাঁতের সাথে লেগে থাকলে এই ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে আমাদের দাঁতের ক্ষয় করতে থাকে। এই ক্ষয়টার কারণ হলো সেখানে ল্যাক্টিক এ্যাসিড। ব্যাক্টেরিয়াগুলো ফ্লাইবারের উপস্থিতিতে তৈরি হয় ল্যাক্টিক এ্যাসিড। সেটাই দাঁতের ক্ষয় করে।

কাদের এই সমস্যা হয়?

ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার কোনো বয়স নেই, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত যা কারোই হতে পারে। তবে সাধারণত দেয়া যায় যে যাদের দন্ত ক্ষয় রোগের সম্ভাবনা আছে বা বংশগতভাবেও হতে পারে এবং যাদের এনামেল যাদের দুর্বল এবং এনামেলের গঠনগত দুর্বলতা থাকে তাদের ডেন্টাল ক্যারিসটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

দেখা যায়, অনেকে বিভিন্ন ধরনের প্রসেস ব্যবহার করে এবং সেই প্রসেসে যদি কোন প্রকার ফল্ট থেকে থাকে তবে তখন ক্ষয় হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় যে আঁকাবাঁকা দাঁত থাকে, সেই আঁকাবাঁকা দাঁত মানুষ ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না– সেখানে খাদ্য জমে যায় আর খাদ্য জমে গিয়ে ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।

এছাড়া দাঁত পরিষ্কার করার নিয়ম আছে তিন বেলা খাবারের পরে, যারা এসব নিয়ম মেনে চলে না তাদের ডেন্টাল ক্যারিস হতে পারে।

সূত্র: ডক্টর টিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here