মাজেদুল ইসলাম স্বপন, জলঢাকা, নীলফামারিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বুধবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিক সীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) চেয়ে বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নদীর আশপাশের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি, বাড়িঘর এবং গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অন্তত আট-দশটি চর ও নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকাল থেকে পানি বাড়তে থাকায় অনেকে নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। কিছু এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় নেই। ফসলি জমি ও গবাদিপশু সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে এখনও ধীরগতি রয়েছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও পশুখাদ্যের।
স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘আমাদের ধানক্ষেত ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। আর কয়েকদিন পানি থাকলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

