শক্ত অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী , বিএনপি’র একাংশের ভরসায় গণ অধিকার, সুবিধা জনক অবস্থানে আছেন বাংলাদেশ জামায়তে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসন, পটুয়াখালী সদর-১ বাউফল-২ গলাচিপা-৩ কলাপাড়া-৪
সংসদীয় আসনে ১১৩ পটুয়াখালী ৩ গলাচিপা দশমিনা দুই ২টি উপজেলা নিয়ে এই আসনটি গঠিত হয়েছে।মোট ভোটার
৩,৫২,২৬৭ (ডিসেম্বর ২০২৩)
পুরুষ ভোটার: ১,৭৭,১৫৫
নারী ভোটার: ১,৭৫,১১০
হিজড়া ভোটার: ২
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, “নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি এ বিষয়ে শতভাগ আশ্বাস দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুধু গলাচিপা–দশমিনা নয়, ইনশাআল্লাহ সারা দেশেই জয়লাভ করতে পারবে। জনগণ ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি চায়।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক মো. শাহ আলম মিয়া একজন শিক্ষাবিদ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার নেতৃত্বে গলাচিপা–দশমিনায় জামায়াতে ইসলামী আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণ পরিবর্তন চায়। মাঠে-ময়দানে নেতাকর
অধ্যাপক মোঃ শাহ আলম বলেন, আল্লাহর রহমতে আমি এমপি নির্বাচিত হলে , গলাচিপা দশমিনা উপজেলা কে বাংলাদেশের মডেল উপজেলায় রুপান্তরিত করব। পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিন্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন। ইতোমধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সোমবার দুপুরে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় তার সাথে দশমিনা ও গলাচিপা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হাসান মামুনের মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার খবরে দলের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত হন।
শক্ত অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী: বিপাকে নূর
কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে এসেছি। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেব। দল আমার বিরুদ্ধে যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে- তা আমি গ্রহণ করেই নির্বাচনে এসেছি। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দল এবং মানুষের পাশে আছি।
উন্নয়নবঞ্চিত দশমিনা-গলাচিপার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা ভোটারের কাছে যাব। আমার বিশ্বাস মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী করবেন।
নির্বাচনে শেষপর্যন্ত থাকা প্রসঙ্গে হাসান মামুন বলেন, ফ্রট রাজনৈতিক দলের স্ট্যান্ডবাজির বিপরীতে এবং বিএনপির নেতাকর্মী ও দলের বিজয় নিশ্চিত করতে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল বিএনপির নেতা কর্মীরা আমার সাথে আছে, তৃণমূলের সাথে থেকে যেভাবে ফেসিস্ট হাসিনার পদত্যাগের আন্দোলন করেছি সেভাবেই তারাও আমার পাশে থাকাব কথা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে নেতাকর্মীরা বলেন দল থেকে বহিস্কার সহ যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়া হোক না কেন শেষ পর্যন্ত তারা হাসান মামুনের নির্বাচনী প্রচারণায় থাকবেন, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরবেন।
ইতি মধ্যে দল থেকে হাসান মামুনকে বহিস্কার করা হলেও স্থানীয় বিএনপি থেকে যাচ্ছে তারই সাথে। তারা জানান দল যে সিদ্ধান্ত নিক না কেন আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি। এমন পরিস্থিতিতে জয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গন অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি যে কিছু করতে পারবে তেমনটাও মনে হচ্ছে না। ক্রমেই জয়ের পাল্লা ভারি হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মানুনের। এ আসনে বরাবরেই দুর্বল ছিলো বিএনপি।
৯০ পরবর্তীতে কোন নির্বাচনেই জিততে পারেনি ধানের শীষ। আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে। বিএনপি নেতা শাহজাহান খানের মৃত্যুর পরে কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের নেতৃত্বে দলটি ক্রমশই সুসংঘটিত হচ্ছে।
৫ই আগষ্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিএনপি এ আসনটি পুনুরুদ্ধানের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় হতাশ স্থানীয় বিএনপি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নূরকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলে বিরোধীতায় নামেন বিএনপি নেতা হাসান মামুন, করছেন স্বতন্ত্র নির্বাচন
বহিস্কার হওয়ার পরও তিনি মাঠ ছাড়েন নি বরং দুই উপজেলার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পদধারী সব নেতা রয়েছেন তার সাথে।
উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব মিয়া, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, সাবেক কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম,মোঃ নেছার উদ্দিন রাড়ী, মোঃ সোবাহান মিয়া, আহসান ইমরান সহ বিএনপির একাংশের সহযোগীতা পাচ্ছেন নুর।
ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবুবকর সিদ্দিকী বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনের মাধ্যমে যদি একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও সুদৃঢ় হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় জনগণের কল্যাণে গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং আসন্ন নির্বাচনেও সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

