Sunday, June 23, 2024
spot_img
Homeসারাদেশচাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২৫ হাজার টন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২৫ হাজার টন

আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার সুস্বাদু আমের ঘ্রাণ শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নেই, সুভাস ছড়াচ্ছে ভিন দেশেও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারে সুনাম কুড়িয়েছে বহুবার। আমের শক্তির ওপর ভর করে টিকে আছে এ জেলার অর্থনীতি। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আমগাছে ফুটেছে সোনালি মুকুল। অনেক গাছে আমের গুটিও আসতে শুরু করেছে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২৫ হাজার মেট্রিকটন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে এ জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এই হিসাবে এবার জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন আম। গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিকটন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলাতেই কম বেশি আমের চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের সারি সারি গাছে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকেরা। ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় সব জাতের আমের উৎপাদন হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর কৃষি জমিতে বাড়ছে আমের আবাদ। আম্রপালি, ফজলি, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে ফজলি আম। এ কারণে আম রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে এখানে আম চাষ হতো ২১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। ২০২৩ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টরে। ১৬ বছরে আম চাষে জমি বেড়েছে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর। যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন, কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদিত আম বেচা-কেনায় এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চাঙা হয়ে ওঠে। আমভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য গোটা এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নিয়ে আসে পরিবর্তন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, চলতি বছর আমের মুকুল কিছুটা কম হলেও উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না। দামে পুষিয়ে নিবে কৃষকেরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ২৫ হাজার টন বেশি হয়ে উৎপাদন দাঁড়াবে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, চাষিরাও বেশ খুশি হবেন।

RELATED ARTICLES

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments