Thursday, May 23, 2024
spot_img
Homeবিশ্বনির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে পাকিস্তানকে ডোনাল্ড লুর হুঁশিয়ারি

নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে পাকিস্তানকে ডোনাল্ড লুর হুঁশিয়ারি

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনে পুনরায় ভোটের আয়োজন না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক ডোনাল্ড।

গত মাসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে গতকাল বুধবার এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

পাকিস্তানের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে আয়োজিত নির্বাচন পরিচালনা এবং দীর্ঘদিন ধরে এক্স বন্ধ থাকাসহ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চলমান বিঘ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এই দেশের সঙ্গে ৭৬ বছরের অংশীদারত্বকে উপভোগ করেছি। পাকিস্তানের যদি নিজস্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না থাকে তবে এটি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’

লুর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের কাছে বড় কোনো নতুন সামরিক চুক্তির কথা বিবেচনা করছে না। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধের মিত্র। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে। আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে অতীত সম্পর্কের কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকা ইমরান খানকে কারাবন্দী করা হয় এবং নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। তাঁর দল তেহরিক–ই–ইনসাফকে (পিটিআই) নির্বাচনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এ দলের নেতা কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়। অন্য যেকোনো দলের তুলনায় ইমরান খানের দলের প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও দুই পরিবারতান্ত্রিক দলের জোট সরকার গঠনের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

দুই বছর আগে পার্লামেন্টের ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত ইমরান খান প্রায়ই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করে আসছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রই তাঁকে অপসারণের পরিকল্পনা করেছে।

ইমরান খানের সমর্থকেরা ফাঁস হওয়া পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন লু। শুনানিতে খানপন্থী বিক্ষোভকারীদের কারণে বারবার বিঘ্নিত হন লু। ইমরান খানকে কখনো অপসারণের চেষ্টা করেছেন— এমন দাবি তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন।

লু বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বটি মিথ্যা। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। আমরা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি। আমরা পাকিস্তানের এই নীতিকে সম্মান করি যে, পাকিস্তানি জনগণই একমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচন করবে।’

বর্ষীয়ান মার্কিন কূটনীতিক লু বলেন, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পরিবারকে এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments