গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের ১৩০ বছর বয়সী তফের আলী মণ্ডলের মানবেতর জীবন যাপন হৃদয় ছুঁয়ে গেছে অনেকের।অনেকটাই হাড় স্বর্ব-স্ব দেহ নিয়ে হারিয়েছে চলা ফিরার শক্তি,সরকারি জমিতে মরিচাধরা জরাজীর্ণ টিনের বেড়া ও ছাউনির ঘরে দিন কাটছিল তার।১১ সন্তানের জনক হলেও,এই বয়সে সন্তানদের ঘরে ঠাঁই হয়নি তফের মণ্ডলের।স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন।সন্তানেরাও নিজেদের মতো জীবন যাপন করছেন।একসময় ছোট ছেলে আইনাল হকের বাড়িতে থাকলেও,পুত্রবধূর অসহযোগিতার কারণে সেখান থেকেও বিতাড়িত হন তিনি।এখন একটি রাস্তার পাশে অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে ঘরে একা জীবন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধ।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার করুণ অবস্থার ভিডিও এবং ছবি ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম.এ মতীনের।গত ৩০ আগস্ট এম.এ মতীন সরেজমিনে গিয়ে বৃদ্ধ তফের মণ্ডলের অবস্থা দেখেন এবং পরদিন তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে তফের মণ্ডলের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে বিএনপির এই নেতা ঘোষণা দেন,যতদিন বেঁচে থাকবেন,ততদিন তফের আলীর খাবার, চিকিৎসা এবং যাবতীয় খরচ তিনি নিজেই বহন করবেন।এ প্রসঙ্গে তফের আলী বলেন,খেয়ে না খেয়ে তার জীবন চলছে, হঠাৎ বিএনপি মতীন এসে তার এ অবস্থা দেখে ঘর করে দেয়াসহ খাবার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিবেন বলেছেন।
ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি দেখে এম.এ মতীন নিজ উদ্যোগে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।এ বিষয়ে এম.এ মতীন বলেন, ফেসবুক ও সংবাদ মাধ্যমে বৃদ্ধ তফের মণ্ডলের দুঃখ ভরা জীবনের খবর দেখে তিনি মর্মাহত হন।তিনি মনে করেন, মানবতার ডাকে সাড়া দেয়া একজন মানুষ ও নাগরিক হিসেবে এটা তার দায়িত্ব। যতদিন ওই বৃদ্ধ বেঁচে থাকবেন, তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এই নেতা। ১১ সন্তানের জনক বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া তফের মণ্ডলের ৮ পুত্র এবং ৩ কন্যা সন্তান থাকলেও তার খোঁজ রাখেন না তারা।তার ভরনপোষণের দাবিতে সন্তানদের বিরুদ্ধে তফের আলী আদালতে মামলাও করেছেন। তফের মন্ডলের পুত্র আইনাল হক বলেন, তার বাবার অভিযোগ ঠিক না।তারা নিজেরাই চরম অভাব অনটনের মধ্যে পরিবার সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করছেন।আইনাল বলেন,তার বাড়ীর ৩টি রুম থাকলেও সংসারের মালামাল ও আত্মীয় এবং ছাগল থাকে একারনে তার বাবার থাকার জন্য আলাদা ঘর নেই।স্থানীয়রা বলছেন,বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া তফের মণ্ডলের এই অবহেলিত জীবন এ সমাজের অনেক পরিবারের বাস্ত চিত্র ফুটে উঠেছে।

