বরিশাল ব্যুরোঃ
বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু সংখ্যক তথাকথিত সাংবাদিক রয়েছেন যাদের কোনো প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। অনেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন বা মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোননি, তবুও তারা স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজপোর্টালের পরিচয়ে কাজ করছেন। এদের অনেকেই হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশার সুনাম নষ্ট করছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতার মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ, এই অদক্ষ ও অনৈতিক ব্যক্তিরা সংবাদ সংগ্রহ ও উপস্থাপনায় মৌলিক নীতি মানেন না। বিকৃত, অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি ও ক্ষতি ঘটান।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, অনেক আঞ্চলিক পত্রিকা হাজার টাকার বিনিময়ে যেকোনো ব্যক্তিকে সাংবাদিক পরিচয়পত্র দিয়ে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তথাকথিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকরা অসম্মানিত হচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অনেক তথাকথিত সাংবাদিক দায়িত্ব পালনের সময় নেশাগ্রস্ত থাকেন। কথা বললেই মদের বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের গন্ধ পাওয়া যায়, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও জনআস্থার জন্য ভয়াবহ হুমকি।
সচেতন মহল মনে করে, প্রতিটি প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির শিক্ষাগত সার্টিফিকেট, মার্কশিট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন চেক করে তাদের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা ও অপরাধমূলক অতীত যাচাই করা হোক। এর মাধ্যমে শিক্ষাহীন, নেশাগ্রস্ত ও চাঁদাবাজ সাংবাদিক চিহ্নিত করা যাবে এবং কার্ড বানিজ্যের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে পেশায় প্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া সম্ভব হবে।
তারা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনারের কাছে দাবি জানিয়েছেন—জোরদার তদন্ত চালিয়ে আঞ্চলিক পত্রিকার কার্ড বানিজ্য, শিক্ষাহীন সাংবাদিক নিয়োগ, নেশাগ্রস্ততা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

