এসএম সুমন রশিদ,বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
প্রতি বছরের ন্যায় ছয়ঋতু হলেও তার মধ্যে শরতকাল আসলেই যেন গর্জে উঠে কাশফুলের রঙ্গিন হাসি।
কাশফুলের শুভ্রতা ভাসমান সাদা মেঘের রঙে মিশে একাকার হয়ে উঠেছে। কখনো সাদা মেঘের আভরণে লুকিয়ে হাসছে সোনালি সূর্য। মেঘ-সূর্যের এই লুকোচুরিতে রঙিন হয়ে ওঠে শরতের কাশফুল।
শরতের এই কাশফুল পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশের বরিশাল সীমান্তজুড়ে এখন কাশফুলের শুভ্রতার ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। দুই বাংলার সীমান্তের বুক চিরে প্রবাহিত নদী, উচু টিলা, বালু মহল এলাকা, ঝোপঝাড়ে গর্জে উঠে কাশফুলের সমারোহ।পর্যটকদের দৃষ্টি নন্দন সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর দু’পারে সাদা মেঘের সঙ্গে মিশে মিতালি খুঁজছে কাশফুল।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়াকাটা যাওয়া আসার পথে খুড়িয়ার খেয়াঘাট নামক স্থানে কাশবনের ব্যাপক ঘনঘটা রয়েছে। পর্যটকের সঙ্গে স্থানীয় দর্শনার্থীরাও গিয়ে ছবি তুলে থাকেন এমনও ঘটনা ঘটে।পর্যটকেরা বিভিন্ন মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি-ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব প্রকৃতি প্রেমীদের মধ্যে কেউ প্রেমিক-প্রেমিকা, দম্পতি কিংবা পরিবারের সদস্য। কেউ কেউ সাদা কাশফুলের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরেছেন। নারীদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা চুলের খোঁপায় কাশফুলের ছোঁয়া শোভা পাচ্ছে।
কাউখালি থেকে কুয়াকাটা যাওয়া পর্যটক জয়ন্ত মাস্টার বলেন, কুয়াকাটা যেতে দেখা হলো কাশবনের সাথে।দাঁড়িয়ে দেখা যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি প্রকৃতির শরতের কাশবনের সৌন্দর্য মন মাতাল করে। মন খারাপ থাকলে প্রকৃতির কাছে ছুটে আসি।
মটর সাইকেল চালক আল আমিন বলেন, ‘আমরা আসেছিলাম খুড়িয়ার খেয়াঘাট কাশফুলের বাগান দেখতে। কাশফুলের সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি।’
স্থানীয় কথাসাহিত্যিক সুলতান মাস্টার জানান, ষড়ঋতুর দেশে শরতের আবহমুগ্ধকর। ভাদ্র-আশ্বিনে শরতের কাশবন সত্যিই দর্শনীয়। একসময় এই কাশিয়া দিয়ে গ্রামে বেড়া ও ঝাড় বানানো হতো, এখন এর সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।
এছারাও বিভিন্ন দর্শনার্থীরা কাশফুলের ব্যাপক ব্যাখা প্রদান করেন, কাশফুল ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস, যার আদি নিবাস রোমানিয়া। ৭-৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে ওঠা এ উদ্ভিদটির চিরল পাতার দুই পাশে ধারালো দাগ থাকে। নদীর ধারে, জলাভূমি, চরাঞ্চল, পাহাড় বা গ্রামের উঁচু স্থানে কাশের ঝাড় জন্মে, তবে নদীর তীরে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, এতে রয়েছে ঔষধি গুণ। মানুষের পিত্তথলিতে পাথর, শরীরে ফোড়া বা ব্যথার ক্ষেত্রে কাশফুলের মূল ব্যবহার হয়। ইংরেজিতে এটির নাম ক্যাটকিন, বৈজ্ঞানিক নাম স্যাকরারাম এসপোটেনিয়াম। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ্জামান খান (ইউএনও) বলেন,আমতলী উপজেলার সৌন্দর্যের আর একটি অস্থায়ী স্থানে পরিনত হয়েছে খুড়িয়ার খেয়াঘাট কাশবন।এ বিষয়টি আমরা শুনেছি। এটি অপার সম্ভাবনাময় এলাকা।প্রতি বছর খুড়িয়ার খেয়াঘাটে কাশফুল ফোটা শুরু হলেই গর্জে ওঠে পর্যটকের সমাগম।

