মিজানুর রহমান শরীয়তপুরের প্রতিনিধিঃ
সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের খবর প্রকাশ করায় শরীয়তপুরের এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয়, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বার্তা বাজার’-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি। হুমকির মুখে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি গতকাল বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ ও হুমকির নেপথ্যে
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও জিডি সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর-এর মালিকানাধীন ‘সাগর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’-এর ডিলারশিপ সম্প্রতি চাল বিতরণে অনিয়মের কারণে বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ডিলারশিপ বাতিলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাগর উল্টো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই প্রেক্ষাপটে, সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয় গত ৭ অক্টোবর ‘বার্তা বাজার’ পত্রিকায় “চাউল বিতরণে অনিয়ম বিএনপি নেতার রোষানলে ইউএনও” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। এই সংবাদে বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর ও তার প্রতিষ্ঠানের সরকারি চাল বিতরণের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর, গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে হৃদয়কে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রকাশিত সংবাদটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। মতিউর রহমান সাগর হুমকি দিয়ে বলেন, সংবাদ না সরালে শরীয়তপুরের নড়িয়া থানাসহ যেকোনো স্থানে যত মামলা হবে, সব মামলায় আশিকুর রহমান হৃদয়কে আসামি করা হবে। এছাড়াও, তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচারের হুমকিও দেওয়া হয়।
সাংবাদিকের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয় বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতিউর রহমান সাগরের ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে এভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সিনিয়র সাংবাদিকদের পরামর্শে তিনি থানায় জিডি করেছেন এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, হুমকির বিষয়ে জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন হুমকি-ধামকির ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট মহল গভীর উদ্বেগের সাথে দেখছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিকের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন অনেকে।

