মনিরুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি :
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বারনই নদী আজ যেন মৃত্যু পথযাত্রী। এক সময়ের প্রাণবন্ত এ নদী এখন দুর্গন্ধে ভরা এক ‘বিষাক্ত নদী’তে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের জন্য। নদী দূষণ ও দখল থেকে রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে সোমবার(১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে “জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বারনই নদী রক্ষায় করণীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকালে নদীপাড়ে ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা পরিবেশনার মাধ্যমে নদীর দূষণ ও এর ভয়াবহ প্রভাব ফুটিয়ে তোলা হয়। শিল্পীরা গান ও সংলাপে নদীর আর্তনাদ তুলে ধরে সচেতনতার বার্তা দেন। পরবর্তীতে “নদীর জন্য একসাথে— নদী রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নদীপাড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করে এএলআরডি, রুলফাও ও বেলা। এতে সহযোগিতা করে বুকস, মাসাউস, পরিবর্তন ও দিনের আলো হিজড়া সংঘসহ মোট ১২টি সংগঠন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্যপানি ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে বারনই নদী এখন প্রাণহীন। পানিতে নামলে চর্মরোগ হয়, মাছ বাঁচে না, নদীর পানির দুর্গন্ধে মানুষ জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
সাংস্কৃতিককর্মী মোস্তফা সরকার বিজলী বলেন, “নদীর পানির দুর্গন্ধে এলাকার মানুষ জানালা বন্ধ রাখে।”
সাবেক নারী কাউন্সিলর মোমেনা আহমেদ নদীর সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপনের দাবি জানান।
নলডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ জহুরুল ইসলাম বলেন, “বারনই নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে নৌযান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।”
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, “নদী ভরাট করে দখল সহজ করতে অনেকেই ময়লা ফেলার সুযোগ নিচ্ছেন।”
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। সভাপতির বক্তব্যে রুলফাও-এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, “নদী বাঁচলে বাঁচবে রাজশাহীর সংস্কৃতি, কৃষি ও জীবন।”
অনুষ্ঠানে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল শেখসহ রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

