বটিয়াঘাটা (খুলনা) প্রতিনিধি :
বটিয়াঘাটা উপজেলার সুন্দরমহল এলাকায় ১৬ লাখ টাকার রাস্তার কাজে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় বটিয়াঘাটা এলজিইডি অফিস কর্তৃক সুরখালি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সুন্দরমহল এলাকায় রাস্তার উন্নয়ন মুলক কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজে ব্যবহৃত ইটের মান অত্যন্ত খারাপ ও নিম্নমানের। নাম্বার বিহীন ইট দিয়ে চলছে রাস্তার কাজ। প্রকল্পটির কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরু হওয়ার পর রাস্তার ইটের মান নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেন। গতকাল স্থানীয় এলাকাবাসী কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইট সোলিং এর কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাস্তায় ব্যবহৃত ইটগুলো অত্যন্ত খারাপ। ইট গুলো টেকসই নয়। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তায় ব্যবহৃত ইটগুলো টেকসই নয়। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন ও প্রতিবাদ করেন এবং পাশাপাশি কাজটি বন্ধের জোর দাবি জানান। কাজটি পেয়েছেন রুপসা এলাকার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস। সূত্রে প্রকাশ, উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৩টি প্যাকেজে মোট ১৬ লাখ টাকার চুক্তিমূল্য কাজটি শুরু হয়েছে। প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে। ১নং সুন্দরমহল পিচের রাস্তা হতে মিলন বিশ্বাসের বাড়ি অভিমুখি ১২০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কাজ। যার প্রাক্কলিত মূল্য ব্যায় ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। ২নং সুন্দরমহল রুহুল আমিনের বাড়ি হতে মহাসিন বিশ্বাসের বাড়ি অভিমুখি পর্যন্ত ১১৫ মিটার ইট সলিংয়ের (বিএফএস) রাস্তা নির্মাণ কাজ। প্রাক্কলিত মূল্য ব্যায় ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। ৩নং সুন্দরমহল শুকুর আলীর দোকান হতে ইয়াসিন আরাফাতের বাড়ি অভিমুখি ইট সলিংয়ের (বিএফএস) রাস্তা নির্মাণ কাজ ২৭০ মিটার। প্রাক্কলিত মূল্য ব্যায় ধরা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
এলাকার বাসিন্দা ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস ও শুকুর আলী গাজী বলেন, আমরা চাই রাস্তার উন্নয়ন হোক, কিন্তু এই ধরনের উন্নয়ন আমরা চাই না। আমাদের বয়সে অনেক রাস্তা দেখেছি, কিন্তু এ কেমন দুর্নীতি। দেশে আইন বলতে মনে হয় কিছুই নেই। তারা আরো বলেন, ঠিকাদারের সাথে কথা বললে তারা বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি দেয়। স্থানীয় আওয়াল হোসেন, সেলিম, আতিকুর, নাজি বিবি, মাফুজা ও স্বপ্না বেগম বলেন, রাস্তার কাজে চরম অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কাজের শুরুতেই নাম্বার বিহীন ইট দিয়ে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার। তাদের সাথে কথা বললে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা এ ধরনের রাস্তা চাই না। আমাদের মাটির রাস্তাই ভালো ছিল। আমরা রাস্তার কাজটি বন্ধ করে দিয়েছি। তাদেরকে বলেছি ভালো ইট এনে কাজ শুরু করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম গাজী ও সুরখালি ইউনিয়নের জামাতে ইসলামের আমির মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমরা চাই এই রাস্তার উন্নয়ন হোক। কিন্তু এই ধরনের নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে কাজ করলে কিছুদিনের মধ্যে রাস্তাটি আবার ভেঙে যাবে। আমরা চাই যথাযথ মানের ইট ব্যবহার করা হোক। ইপি সদস্য জিএম এনামুল গাজী বলেন, শুনেছি কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। রাস্তায় যেসব ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে তা অনুপযোগী। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ শুনে আমরা সবাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বটিয়াঘাটা (এলজিইডি) ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজ বন্ধ হচ্ছে না। জানিনা না কোন অপশক্তির দাপটে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জরুরী ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার জোর দাবি জানান তারা।
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, কাজে অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে, সংবাদ শুনে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস বলেন, কিছু ইটে সমস্যা আছে। সেগুলো ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে ফেরত দিতে বলেছে। আমি সেগুলো ফেরত দিব।
বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল বলেন, কাজে ইটের মান নিম্নমানের সংবাদ শুনে আমি ঠিকাদার কে বলেছি, ইট গুলো পরিবর্তন করতে। বর্তমান কাজটি বন্ধ রয়েছে। সদ্য যোগদানকারী উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

