• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • পদ্মার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কিত জনজীবন 

     swadhinshomoy 
    24th Nov 2025 11:35 am  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ফরিদ আহম্মেদ, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

    বন্যার পরবর্তী কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গণের তীব্রতা বাড়ার ফলে আতঙ্কিত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বেশ কিছু এলাকাবাসীরা। বন্যার পানি কমার কারণে এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে পদ্মায় বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। তবে ইতোমধ্যে দৌলতপুর উপজেলার নদীর চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চল (মরিচা ও চিলমারী ইউনিয়ন) এর বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতবাড়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্থাপনা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে নদী রক্ষা বাঁধ ও ভারত থেকে আসা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এসব স্থাপনার সাথে সাথে কয়েকটি গ্রাম বিলীনের শঙ্কায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি আতঙ্কিত বাসিন্দাদের।
    রোববার (২৩ নভেম্বর) সরেজমিনে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়াড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা, পাশের সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার, আতারপাড়া ও উদয়নগর এবং ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াহ এলাকাজুড়ে নদীভাঙন বেড়েই চলেছে। গত দেড় মাসে মরিচা ইউনিয়নের উদয়নগর বিজিবি ক্যাম্পসহ ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন গ্রামের শত শত বিঘা আবাদি ও চারফসলি জমি, বাগান, বেশকিছু বাড়ি-ঘরসহ অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকেই।
    এছাড়া ভারত থেকে আসা ৫০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং ৫০০ মিটার দূরের রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। হুমকির মুখে নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড় কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড় মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদ, জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়াদহ বাজারও।
    ভাঙন কবলিত গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে প্রতি বছরই প্লাবিত হয় চরের কৃষিজমি ও নদীর দুইপাশের নিম্নাঞ্চল। দেড় মাস আগেও বন্যার পানি থই থই করা এলাকাগুলোতে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
    নদীপাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত বছর এক কিলোমিটার এলাকায় বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু না হলেও কয়েকটি এলাকা কোনোমতে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। এর মধ্যে ভুরকাপাড়ায় নদীর কিছু অংশে জিও ব্যাগের বাঁধ থাকলেও মরিচা ইউনিয়নের বিশাল এলাকা এখনও অরক্ষিত।
    নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এসব এলাকার বসত বাড়িসহ ফসলি জমি। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন কৃষকসহ অসংখ্য গ্রামবাসী।
    কোলদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন, তীব্র ভাঙনে ফসলের মাঠ পার হয়ে নদী এখন মহিষকুন্ডি-রায়টা বাঁধের নিচে চলে এসেছে। প্রতিদিন ব্যাপকভাবে নদী ভাঙছে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    তার মতে, এলাকাকে রক্ষা করতে হবে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ দেওয়া দরকার। তা না হলে কয়েকটি গ্রামের বাড়ি-ঘরসহ সবকিছুই নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, বন্যা পরবর্তী নদী ভাঙ্গণে ফলে কৃষি জমি বিলীন হলে কৃষিকাজ ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সেই সাথে কৃষি উৎপাদন কমতে পারে।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। এজন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভাঙন রোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী- দু’ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তাবনা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    November 2025
    S M T W T F S
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    30