হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বলতেন যে, ইখলাসের শিক্ষা আমি এক নাপিতের কাছ থেকে লাভ করেছি। ঘটনাটি ছিল এমন যে, মক্কা মুকাররামায় অবস্থানকালে একদিন এক নাপিত একজনের চুল কাটছিল। আমি তাকে বললাম, “আল্লাহর ওয়ান্তে আমার চুলগুলো কেটে দাও”।
সে সঙ্গে সঙ্গে সেই ধনী লোকটির ক্ষৌরকর্ম থামিয়ে দিয়ে আমার কাজ শুরু করল। চুল কাটা শেষে সে একটি কাগজের মোড়ক আমার হাতে তুলে দিল, যার ভেতরে কিছু খুচরো পয়সা মোড়ানো ছিল। সে আমাকে বলল, “আপনি এগুলো আপনার খরচের জন্য ব্যবহার করুন।”
আমি সেই মোড়কটি নিয়ে এই নিয়ত করলাম যে, এখন আমার কাছে প্রথমে যা কিছু আসবে,
তা আমি ওই নাপিতের হাতে তুলে দেব। কিছুদিন পর বসরা শহরে একজন লোক স্বর্ণমুদ্রা ভরা একটি থলে আমাকে পেশ করল।
সেই থলে নিয়ে আমি যখন নাপিতের কাছে পৌঁছালাম, তখন সে আমাকে বলল, “আমি তো আপনার খেদমত কেবল আল্লাহর জন্যই করেছিলাম, আর আপনি নির্লজ্জের মতো আমাকে থলে পেশ করতে এসেছেন? আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহর ওয়াস্তে কাজ করার পর কেউ কোনো বিনিময় গ্রহণ করে না?” (তাযকিরাতুল আউলিয়া, অনুদিত, পৃষ্ঠা- ২১৬, ফারসি সংস্করণ- ৩৭৪ পৃষ্ঠা)।
হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী (কুদ্দিসা সিররুহ) এর জবানীতে ইখলাসের হাকীকত, গুরুত্ব ও তার আলামত লক্ষ করুন-
ইখলাসের গুরুত্ব
ইখলাস শব্দটি সবাই শুনেছেন, কিন্তু এটি নিজেদের মধ্যে তৈরি করার চিন্তা কারো নেই। আমরা নিজেরাও আমাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করে দেখি না যে, আমাদের মধ্যে কী ঘাটতি রয়েছে। ইখলাস এতই প্রয়োজনীয় একটি বিষয় যে, তা ছাড়া ইবাদত পর্যন্তও গ্রহণযোগ্য হয় না। যখন ইবাদতের জন্যও ইখলাসের উপস্থিতি আবশ্যক, তখন এর মাধ্যমেই ইখলাসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য আরও বেশি জানা যায় যে, ইবাদতের মতো বিষয়ও তা ছাড়া অর্থহীন। (দাওয়াত-এ আবদিয়াত-২/৫৭, আদ্-দীনুল খালিস)।
ইখলাসের হাকীকত:
‘ইখলাস’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো খাঁটি করা। আর শরীয়তে এর অর্থ সেই একই, যা শরীয়তের আগমনের পূর্বে ছিল। খাঁটি ঘি সেটাই, যার মধ্যে অন্য কোনো জিনিস মেশানো থাকে না। তেমনিভাবে, ‘ইখলাসে ইবাদত’-এর অর্থ হলো, ইবাদতকে ভিন্ন উদ্দেশ্য থেকে খালি করা; অর্থাৎ এমন কোনো উদ্দেশ্য তাতে না মেশানো, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে অর্জন করা কাম্য নয়। (আত-তাবলীগ-২/১৩২)।

