আরিফ মাহমুদ:
মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ তাআলা সমস্ত সৃষ্টিজীবের মাঝে মানুষকে সবচেয়ে উত্তমভাবে সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয় বরং সকল সৃষ্টির সেরা ও সম্মানিত বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বয়ং কুরআনে পাকে।
আল্লাহ তাআলা সূরা বানী ইসরাইলের ৭০ নং আয়াতে বলেন,
অর্থ: বাস্তবিকপক্ষে আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদেরকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং আমার বহু মাখলুকের উপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
সূরা তীনের অপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,অর্থ: নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে। (সূরা তীন: ৪)
আল্লাহ তাআলা সত্যিকার অর্থেই মানুষকে অন্যান্য সৃষ্টির উপর বহুমুখী শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। মানুষের জন্য কত রকমের উত্তম খাবার ও পানীয়, শরীরের জন্য কত রঙবেরঙয়ের দামি পোষাক পরিচ্ছদ, চলাফেরায় নানান যানবাহন সহ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন।
ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বলেন, উপরের আয়াত দ্বারা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে, আল্লাহ রব্বুল আলামীন মানুষকে ফেরেশতাদের থেকেও শ্রেষ্ট বানিয়েছেন, এবং তিনি একটি হাদিসও উল্লেখ করেন, যা আল-মু’জামুল কাবির লিত-তাবারানী এর ১৪৫৮৪ নং হাদিসের বর্ণনায় এসেছে,অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফেরেশতারা একবার আল্লাহ তাআলার কাছে আর্জি পেশ করে বলল, হে আমাদের রব! আপনি আদম সন্তানকে কতকিছু দান করেছেন! তারা দুনিয়াতে পানাহার করে, কত রকমের খাবার খায়! আর আমরা সবসময় আপনার তাসবীহ পাঠে মগ্ন থাকি, আমরা পানাহারও করি না আবার মনমত চলতেও পারি না। আপনি তাদের জন্য যেমন দুনিয়াতে এমন এমন ব্যবস্থা রেখেছেন আমাদের জন্য আখেরাতে এমন এমন ব্যবস্থা রাখেন। (যেন আমরা আখেরাতে তাদের মত এগুলো করতে পারি) তাদের একথা শুনে আল্লাহ তাআলা বললেন, না আমি যাদেরকে নিজ কুদরতী হাতে সৃষ্টি করে এই শ্রেষ্টত্ব দিয়েছি তা এমন সৃষ্টিকে এই শ্রেষ্টত্ব দিবো না যাদেরকে আমি “কুন” বলেছি ফলে তারা সৃষ্টি হয়েছে। (আল-মু’জামুল কাবির লিত-তাবারানী: ১৪৫৮৪)
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এই মানুষ যাদেরকে আল্লাহ তাআলা এত এত ফযীলত ও মর্যাদা দান করেছেন, তাদেরকে হত্যা করাও তিনি হারাম করেছেন এবং সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপাচার বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আজকে আমরা মানুষের উপর জুলুম ও অন্যায়ভাবে হত্যার ভয়াবহতা এবং শাস্তি নিয়েই আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ!
জুলুম কাকে বলে?
জুলুম (সা) একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো নির্যাতন বা অবিচার। সাধারণ অর্থে কাউকে অন্যায়ভাবে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক বা যেকোনো পন্থায় অবিচার বা নির্যাতন করাকে জুলুম বলে।

