নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।চলতি বছর গ্রামীণ সড়ক সংস্কার প্রকল্পের নামে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প গুলোর কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে পুরো চাল উত্তোলন করে নিয়েছেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,প্রকল্প গুলোর সিডিউল মোতাবেক গ্রহণযোগ্য কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। দায়সারাভাবে দু-একটি স্থানে যৎসামান্য মাটি ফেলে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন পিআইও অফিস,বনগ্রাম দুলালের বাড়ি থেকে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত সড়ক ৫ দশমিক ৫ মেট্রিকটন,চকরামাকান্ত পাকা সড়ক থেকে আব্বাসের বাড়ির সড়ক পর্যন্ত ৯ মেট্রিক টন,চকমানিক মসজিদ থেকে সোহরাবের বাড়ির সড়ক পর্যন্ত ৭ মেট্রিক টন এবং চকগৌরী সেতু থেকে আতাউরের বাগান অভিমুখী সড়ক পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের লক্ষ্যে ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়।সরকারি হিসাবে প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা।সে হিসাবে ওইসব প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৩০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চালের বাজার মূল্য ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কতিপয় ব্যাক্তি জানান, মাত্র একদিন ১০/১২ শ্রমিক দিয়ে দায়সারাভাবে রাস্তায় যৎসামান্য মাটি ফেলে কাজ শেষ করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ দায়সারাভাবে ওইসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।বনগ্রাম দুলালের বাড়ি থেকে আতাউরের পাইকড়ের গাছ পর্যন্ত সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন,তাকে নামমাত্র সভাপতি করা হয়েছে। প্রকল্পের সবকিছু দেখভাল করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু ও ইউপি সদস্য মনসুর রহমান।এ প্রকল্পে কত টন চাল বরাদ্দ দেয় হয়েছে এ তথ্য তাকে জানানো হয়নি বলেও প্রকল্প সভাপতি গোলাম মোস্তফা দাবী করেন।তিনি জানান,শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তার হাতে পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়া হয়।অপর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি তানজিলা খাতুন বলেন, প্রকল্প সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই, সবকিছু মনসুর মেম্বারই করেন।এ বিষয়ে মুঠো ফোনে ইউপি সদস্য মনসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন বন্ধ করে দেন। মুঠো ফোনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এবিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আখতার জাহান সাথী বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে দেন।

