শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার তিন উপজেলা দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী ও কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলগুলোতে আজ ভোররাত থেকেই মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছিল চারপাশ, যা অব্যাহত ছিল সকাল ৯টা পর্যন্ত। ঢাকার মূল শহরের তুলনায় এসব এলাকায় শীতের প্রকোপ অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
পদ্মা ও বুড়িগঙ্গা নদীর অববাহিকায় কুয়াশার স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় কেরানীগঞ্জ ও দোহারের ফেরি এবং ট্রলার চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে পদ্মা নদী সংলগ্ন হওয়ায় দোহার ও নবাবগঞ্জে কুয়াশার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতা এবং উত্তরীয় হিমেল হাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। দোহার ও নবাবগঞ্জের খোলা মাঠ এবং বিল এলাকায় ঠান্ডার দাপট কেরানীগঞ্জের তুলনায় কিছুটা বেশি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের দেখা মিললেও রোদের তেজ খুব একটা না থাকায় দিনের বেলাতেও হালকা শীতের আমেজ বজায় ছিল। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। সকালে বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
এদিকে শীতের এই তীব্রতা ও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। দোহার ও নবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় আবাদকৃত আলু এবং সরিষা খেত নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। কৃষকদের মতে, কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে, যা ফলন বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

