মো রাশেদ শরীফ,মাগুরা জেলা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার সদর উপজেলার ইচ্ছাখাদা বাজার এলাকায় চোর সন্দেহে এক যুবককে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোররাতে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত যুবকের নাম মো. আকিদুল ফকির (৩৮)। তিনি সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের পাঁকা কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত শহর ফকিরের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, আকিদুল ফকির দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করার পর প্রায় পাঁচ মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় কাঁচামাল পরিবহনের গাড়িতে লোড-আনলোডের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত সোমবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ইচ্ছাখাদা বাজার এলাকায় পৌঁছালে তাকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই একদল লোক তাকে গরু চোর আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
নিহতের পরিবার জানায়, বাজারের কিছু লোক আকিদুলকে মারধর করলেও হামলাকারীদের কাউকে তারা শনাক্ত করতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ঠান্ডা মাথায় আকিদুলকে গরু চোরের অপবাদ দিয়ে হত্যা করেছে। অথচ ঘটনাস্থলে কোনো গরু, চুরির আলামত বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্বজনদের।
নিহতের এক স্বজন জানান, ঘটনার সময় আকিদুল ফকিরের মোবাইল ফোন থেকেই তার ছেলের নম্বরে কল দিয়ে বলা হয়, ‘তোমার বাবা গরু চুরি করছেন’—এই কথা বলেই জানানো হয় যে তাকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবার পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় আকিদুল ফকিরকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের না হলেও বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

