আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
‘জটিল বৈশ্বিক পরিবেশে চীন অর্থনীতির স্থিতিশীল উন্নয়ন বজায় রেখেছে। যা আমাদের মতো বহুজাতিক কোম্পানির জন্য এক বাস্তব সুযোগ।’ ১৯ জানুয়ারি সোমবার, চীন সরকার ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ অর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বখ্যাত এয়ার পিউরিফায়ার ব্র্যান্ড আইকোয়েলের গ্লোবাল সিইও ফ্র্যাঙ্ক হ্যাম এভাবেই মূল্যায়ন করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও চীনের অর্থনীতির এই অর্জনকে ‘প্রত্যাশার চেয়ে ভালো’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
বিশ্বজুড়ে এই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত মূল্যবান। ২০২৫ সাল হলো চীনের ‘চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র শেষ বছর। এ বছর চীনের জিডিপি প্রথমবারের মতো ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্যগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র জন্য একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছে। একদিকে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে চীনের অবদানের হার ৩০ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা চীনের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সমাজের আস্থারই প্রতিফলন।
এমন সাফল্য কোথা থেকে এসেছে? চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াং সিয়াও সুং বলেন, চীনের উদ্ভাবন-নির্ভর উন্নয়ন কৌশল এবং নতুন মানের উৎপাদন শক্তি জোরদার করার মাধ্যমে অর্থনীতির উচ্চমানের উন্নয়ন বেগবান করাই এর প্রধান কারণ। সেই সঙ্গে চীন সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতির বার্ষিক প্রতিবেদনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্থিতিশীলতা। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির দুর্বলতাসহ বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও চীনের প্রধান তিনটি খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) গত বছরের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে এবং শহর ও গ্রামে গড় বেকারত্বের হার ৫.২ শতাংশ। কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল। পণ্য বাণিজ্য নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন চাপের মধ্যেও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, যা গোটা বিশ্বের জন্য কল্যাণকর।
পাশাপাশি, চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তিগুলো ক্রমশ উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠছে। একদিকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির মোট পরিমাণ বছরে ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; চীনা নাগরিকদের মাথাপিছু আয় প্রকৃত অর্থে ৫.০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন উৎপাদনশীল শক্তির বিকাশ ও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বড় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাফল্য এসেছে। এর মধ্যে উচ্চ-প্রযুক্তিগত উৎপাদন শিল্পের সংযোজিত মূল্য ১৭.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং ডিজিটাল পণ্য উৎপাদনের সংযোজিত মূল্য বছরে ৯.৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ প্রথমবারের মতো ওইসিডি দেশগুলোর গড় স্তরকে ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশটির ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’ বা উদ্ভাবন সূচকের র্যাংকিং প্রথমবারের মতো শীর্ষ দশে প্রবেশ করেছে।
বিশ্বখ্যাত নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ বহুজাতিক কোম্পানি আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে চীনে তাদের উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। এদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ কোম্পানি চীনা বাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ব অর্থনীতির বিষয়ে তাদের প্রত্যাশার তুলনায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো চীনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে বেশি আশাবাদী। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, চীন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করছে।
চীনা অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা এবং বিশ্বকে আরও উন্মুক্ত করার জন্য চীনা সরকারের দৃঢ় সংকল্প থেকে নিশ্চিত করে বলা যায়, চীন ‘প্রবৃদ্ধির মরূদ্যান’ এবং ‘উদ্ভাবনের স্তম্ভ’ হয়ে থাকবে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।
সূত্র:শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

