কলমে:- এম এম শাকিল আহমেদ
—তুমি কোথায়?
—আমি পাবনায়।
—কখন আসবেন?
—কালকে।
শুনে ভরসা রাখি,
বিশ্বাসের খাতায় নামটা লিখি।
পরের দিন আবার প্রশ্ন করি,
—এখন কোথায়?
—পাবনায়।
—কখন আসবেন?
—এক ঘণ্টা পরে।
সময় গুনি, অপেক্ষা বাড়ে।
বাসায় এসে ফোন দিলাম,
—কোথায় তুমি? আমি তো এসে গেছি।
—দাঁড়াও পাঁচ মিনিট।
কথাটা ছিল বেশ সহজই।
পাঁচ মিনিট পর দরজায় সে,
নতুন কথার শুরু তখনই হয়—
“দশ হাজার টাকা দিবি কি ভাই?
বন্ধুর ফ্রি ফায়ার আইডি কেনা হয়।
সামনের মাসে খুশি মনে
হাজার টাকা বেশি পেয়ে যাবি ভাই।”
আমি বলি, “সরি ভাই,
এটা তো সুদ—হারাম পথ।”
সে বলে, “আমিও বুঝি,
তবু খুশি মনেই দেবে সে তো।”
আমি বলি, “খুশি হোক বা বাধ্য হোক,
নাম যাই দাও—সুদই হয়।
আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন,
সুদ করেছেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়।”
“দশ হাজার দিয়ে
এগারো হাজার নেওয়া—
খুশির মোড়কে মোড়া হলেও
পাপের হিসাব বদলায় না।”
ভাই বলে, “খুশি মনেই দিবে।”
আমি বলি, “ভাই শোনো কথা—
আজ টাকার দরকার হলে
হাওলাত চাও, সেটাই সঠিক পথটা।
কারো কাছে থাকলে দিবে,
না থাকলে কষ্টে না পারবে।
কিন্তু বাড়তি টাকার লোভ দেখিয়ে
নিজের আখিরাত কেন নষ্ট করবে?”
এই ইসলামী দেশে আজ
সুদের কারবার ছড়িয়ে গেছে,
তোমাদের মত লোকের কারণেই
এই পাপ সমাজে জায়গা পেয়েছে।
হাওলাত হলে দিতাম ভাই,
মানুষের উপকার ভেবে।
কিন্তু জেনে-শুনে পাপের বোঝা
আমি নেবো না কাঁধে।
আর শোনো শেষ কথাটা—
সুদ খাওয়া, দেওয়া,
আর সাক্ষী হওয়া—
তিনজনই সমান গুনাহে বাঁধা।
তাই বলি ভাই, ফিরে এসো,
এই পথ ছেড়ে বেরিয়ে আসো।
হালালের পথে শান্তি আছে,
এই দুনিয়া ও আখিরাত বাঁচাও।

