• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস: সচেতনতা ও মানবিক সহমর্মিতাই প্রতিরোধের চাবিকাঠি 

     swadhinshomoy 
    24th Jan 2026 1:18 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

    প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শেষ রোববার বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালিত হয়। ২০২৬ সালে এই দিবসটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে পালিত হবে, এবং বাংলাদেশে তা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ জানুয়ারি। কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণা তৈরি, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠাই এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।
    বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কুষ্ঠবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইলেপ (International Federation of Anti-Leprosy Associations—ILEP)। ১৩টি আন্তর্জাতিক এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত এই সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাউল ফোলেরো ১৯৫৪ সালে প্রথম কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেন। সেই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

    কুষ্ঠ রোগ ও সমাজের ভ্রান্ত ধারণা

    কুষ্ঠ রোগের নাম শুনলেই অনেকের মনে ভয়, ঘৃণা ও আতঙ্ক কাজ করে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে অবহেলার শিকার করা সাধারণ ঘটনা। বাস্তবতা হলো—কুষ্ঠ কোনো পাপ, অভিশাপ বা লজ্জার রোগ নয়। এটি একটি জীবাণুবাহিত সংক্রামক রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও নিয়মিত চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

    শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি সামাজিক অবহেলা ও মানসিক চাপ কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনে বড় সংকট তৈরি করে। অনেক সময় পরিবার, সমাজ বা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, বিচ্ছিন্নতা ও লজ্জা তাদের জীবনকে কঠিন করে তোলে। চিকিৎসার পাশাপাশি এই ধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন অপরিহার্য।

    কুষ্ঠ আক্রান্তদের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন রোগের দ্রুত নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতা ছাড়া কুষ্ঠ নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমাজে সঠিক তথ্য প্রচার এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি।

    কুষ্ঠ রোগের ইতিহাস

    কুষ্ঠ মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন রোগ। হিন্দু, খ্রিস্টান ও ইসলাম—তিনটি প্রধান ধর্মগ্রন্থেই কুষ্ঠ রোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। মিসর, চীন, গ্রিস, রোম ও ভারতবর্ষের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসেও কুষ্ঠ রোগের বিবরণ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, কুষ্ঠ রোগের ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো।

    দীর্ঘকাল রোগটির প্রকৃত কারণ অজানা থাকায় কুষ্ঠকে ঘিরে নানা কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা গড়ে ওঠে। কোথাও একে ঈশ্বরের অভিশাপ হিসেবে দেখা হতো, কোথাও পাপের ফল হিসেবে। ফলে যুগের পর যুগ কুষ্ঠ আক্রান্তরা সামাজিক নিপীড়ন, বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়েছেন।

    ১৮৭৩ সালে নরওয়ের বিজ্ঞানী গেরহার্ড হ্যানসেন প্রমাণ করেন যে কুষ্ঠ একটি জীবাণুঘটিত সংক্রামক রোগ, যা ধীরগতিতে বংশবিস্তারকারী মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রে ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। তার নামানুসারেই কুষ্ঠকে অনেক সময় হ্যানসেন ডিজিজ বলা হয়। এই আবিষ্কারের পর থেকেই কুষ্ঠ রোগের কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়।

    আধুনিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    কুষ্ঠের জন্য এখন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT) ব্যবহার করে রোগীকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত হলে, রোগী নিয়মিত ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে কুষ্ঠ সংক্রমণ থেমে যায় এবং স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা এড়ানো সম্ভব।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের দশকে বিশ্বের কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫২ লাখ, যা ধারাবাহিক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির ফলে বর্তমানে প্রায় ২ লাখে নেমে এসেছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনও কুষ্ঠ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান।

    বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগের চিত্র

    বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগের সংখ্যা কমলেও নতুন রোগীর শনাক্ত হওয়া প্রতি বছর সাধারণ প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২২–২০২৫) অনুযায়ী: ২০২২ সালে: প্রায় ২,৯৮৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত
    ২০২৩ সালে: প্রায় ২,৫৫০–২,৬০০ জন নতুন রোগী শনাক্ত ২০২৪ সালে: আনুমানিক ৩,০০০ জন নতুন রোগী শনাক্ত ২০২৫ সালে: প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৩,২০০–৩,৫০০ জন নতুন রোগী শনাক্ত দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া রোগীদের ৮–১০ শতাংশ সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় স্থায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছেন।

    ঝুঁকিপূর্ণ জেলা

    জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি অনুযায়ী, দেশের ১২টি জেলা কুষ্ঠ রোগের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো হলো:রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
    উদাহরণস্বরূপ, রংপুরের একটি গ্রামে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী এবং এনজিও একত্রিত হয়ে প্রতি মাসে সচেতনতা ক্যাম্প পরিচালনা করছে। এতে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে গ্রামবাসীদের তথ্য প্রদান করা হয়। এর ফলে গ্রামের অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করছে এবং স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা কমছে।

    কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি

    * ত্বকে ফ্যাকাশে বা ছোপযুক্ত দাগ
    * আক্রান্ত স্থানে অনুভূতি কমে যাওয়া
    * হাত-পা দুর্বল বা অসাড় হয়ে যাওয়া
    * পায়ের পাতায় দীর্ঘস্থায়ী ঘা
    * শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বক
    * নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া

    জটিলতা

    কুষ্ঠ রোগ প্রাথমিকভাবে ত্বক এবং স্নায়ুকে প্রভাবিত করে। যদি রোগটি সময়মতো শনাক্ত না করা হয় বা নিয়মিত চিকিৎসা না নেওয়া হয়, তবে এটি ধীরে ধীরে গভীর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি তৈরি করে।

    * স্নায়ু ক্ষতি: হাত-পা বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৈনন্দিন কাজ যেমন লেখা, ধরা, রান্না বা হাঁটা-চলা করতে পারে না।

    * হাত-পা বেঁকে যাওয়া : রোগ সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে অঙ্গ বিকৃত হয়ে যায়।

    * আঙুল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট হওয়া: দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের কারণে আঙুল বা পায়ের অংশ নষ্ট হতে পারে।

    * দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: চোখের স্নায়ু বা চোখের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আংশিক বা স্থায়ী দৃষ্টি নষ্ট হতে পারে।

    * চর্মরোগ ও ঘা: ত্বকে ছোপ বা দাগ দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না পেলে বড় ও সংক্রমিত ঘা হয়ে যায়।

    * নাক ও মুখের সমস্যা: নাক ও শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা মুখের আকার পরিবর্তন হতে পারে।

    * মানসিক ও সামাজিক জটিলতা:
    শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি, কুষ্ঠ রোগ মানসিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলে। রোগী সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করে, আত্মবিশ্বাস হারায়, হতাশা ও অবসাদে ভুগতে পারে। বিশেষ করে শিশু বা কিশোররা স্কুল বা বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পারে না। সমাজে বৈষম্য, লজ্জা ও তিরস্কার রোগীর জীবনমানকে আরও খারাপ করে।

    দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি:

    * সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া রোগকে দীর্ঘমেয়াদি করে তোলে।
    * স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা ও শারীরিক বিকৃতি রোগীর জীবনকে সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিকভাবে অসুবিধাজনক করে তোলে।
    * পরিবারের ওপরও প্রভাব পড়ে; খরচ বৃদ্ধি, কাজের সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক মানের অবনতি ঘটে।

    চিকিৎসার গুরুত্ব:

    সঠিক সময়ে মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT) গ্রহণ করলে এই জটিলতা প্রায় ১০০% এড়ানো সম্ভব। প্রাথমিক শনাক্তকরণ, নিয়মিত চিকিৎসা এবং পরিবারের সহানুভূতি রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে সাহায্য করে। সামাজিক সমর্থন রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

    কুষ্ঠ প্রতিরোধ ও করণীয়

    কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধে এবং রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা জরুরি:
    * সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন – রোগের প্রাথমিক ধাপেই নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো শনাক্তকরণ রোগ নিরাময়ে সহায়ক।

    * নিয়মিত ও পূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করুন – কুষ্ঠ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, যদি রোগী নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT) গ্রহণ করে। অসম্পূর্ণ চিকিৎসা স্থায়ী ক্ষতি এবং সংক্রমণ বাড়াতে পারে।

    * সহানুভূতিশীল মনোভাব বজায় রাখুন – রোগীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না করে, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানসিক সমর্থন দেওয়াই দ্রুত পুনর্বাসনের মূল চাবিকাঠি।

    * সঠিক তথ্য প্রচার করুন এবং কুসংস্কার দূর করুন – ভ্রান্ত ধারণা, লজ্জা বা কলঙ্কিত কুসংস্কার থেকে বিরত থাকুন। সমাজে সচেতনতা তৈরি করা রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
    বাংলাদেশে বিভিন্ন মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজে কুষ্ঠ সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এই তথ্য পরিবার ও সমাজের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে কুষ্ঠ শনাক্ত, পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সহায়তা করছে।এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে কুষ্টির প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব এবং রোগীদের মর্যাদা, অধিকার ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সহজ হয়। সমাজের সকলে একত্রিত হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক সহমর্মিতা এবং চিকিৎসা গ্রহণ নিশ্চিত করলে কুষ্ঠ নির্মূল করা সম্ভব।

    সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

    কুষ্ঠ রোগ শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় রোগীরা চাকরি হারায়, ব্যবসা করতে পারে না বা স্কুলে যেতে পারে না। পরিবারও প্রভাবিত হয়। সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক সহমর্মিতা রোগীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।

    বৈশ্বিক উদাহরণ ও শিক্ষা

    ভারতের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং আফ্রিকার কিছু দেশ দেখিয়েছে, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা মিলিয়ে রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব। বাংলাদেশেও গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফ্রি পরীক্ষা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

    হোমিও সমাধান:

    হোমিওপ্যাথিতে মূলত রোগ নয়, রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রোগীর শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত লক্ষণ বিশ্লেষণ করে ঔষধ নির্বাচন করেন। কুষ্ঠ রোগে লক্ষণ অনুযায়ী যে সব ঔষধ ব্যবহৃত হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে:রাস টক্স,আর্সেনিকাম অ্যালবাম,কস্টিকাম
    মারকুরিয়াস সল,সালফার,সেপিয়া
    নাট্রাম মিউর,ক্যালকারিয়া কার্বনিকা,
    লাইকোপোডিয়াম,এসিড ফ্লু,সাইলেসিয়া,
    হিপার সাল্ফ,ফসফরাস,
    আলোমিনা
    এই ঔষধগুলো রোগীর ত্বকের ধরন, ফোস্কা বা ক্ষত, চুলকানি, দাগ, র‍্যাশি, জ্বালা এবং ধীরগতির সংক্রমণের ধরণ অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়।
    সতর্কতা:

    * ঔষধ নিজে নিজে ব্যবহার না করা উচিত।

    * কুষ্ঠ রোগে চিকিৎসা শুরু করার আগে
    * বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
    নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি।
    হোমিওপ্যাথি রোগীর প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ায়, তবে সংক্রামক অবস্থায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা অপরিহার্য।

    পরিশেষে,কুষ্ঠ রোগ আর কোনো অভিশাপ নয়—এটি একটি নিরাময়যোগ্য সংক্রামক রোগ। তবে অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে এখনও অনেক দেশে কুষ্ঠ একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক সময় রোগীর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, সহপাঠী বা সহকর্মীরা ভুলভাবে তাদের বিচ্ছিন্ন করে, যা শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, মানসিক ও সামাজিক কষ্টও তৈরি করে।
    কুষ্ঠ নির্মূল করতে হলে আমাদের অবশ্যই দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা, সামাজিক সহানুভূতি এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ বজায় রাখতে হবে। রোগীকে বিচ্ছিন্ন না করে পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং পরিবারের সমর্থন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারণা ও লজ্জার মানসিকতা দূর হয়।
    প্রতিটি মানুষকে জানা উচিত, কুষ্ঠ রোগের ফলে আক্রান্তরা একেবারে সমাজের স্বাভাবিক নাগরিকদের মতো জীবনযাপন করতে পারে—যদি তারা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেয় এবং সামাজিক সমর্থন পায়। শিশু, কিশোর এবং বৃদ্ধ—সবাই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তাই পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করতে হবে।
    ভয় নয়, জ্ঞান, সচেতনতা এবং মানবিক সহমর্মিতা কুষ্ঠকে পরাজিত করতে পারে। আসুন, আমরা সকলে মিলে কুষ্ঠ আক্রান্তদের মর্যাদা, অধিকার এবং সমাজে সমান সুযোগ নিশ্চিত করি। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু সহমর্মিতার প্রতীক নয়, বরং একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গ। সচেতনতা, সঠিক তথ্য প্রচার এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ গ্রহণের মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগের বিরুদ্ধে আমরা সফলভাবে লড়াই করতে পারি।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    S M T W T F S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031