• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার: বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস – ইসলামের দৃষ্টিতে অসুস্থদের প্রতি করুণা 

     swadhinshomoy 
    24th Jan 2026 6:23 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

    প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার বিভিন্ন দেশে পালিত হয় “বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস”। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অসুস্থ, দুর্বল এবং দয়নীয় মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং মানবিক দায়িত্ব। কুষ্ঠ বা অন্য যে কোনো রোগে আক্রান্ত মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাদের প্রতি সদয় হওয়া মুসলিমের নৈতিক কর্তব্য।
    ইসলাম শিক্ষা দেয় যে মানব জীবনের প্রতিটি দুর্দশা আল্লাহর একটি পরীক্ষা। অসুস্থতা কেবল শারীরিক নয়, এটি মানসিক ও আত্মিক শক্তিও পরীক্ষা করে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দেন যে আমরা আমাদের সহমর্মিতা, ধৈর্য এবং করুণা দ্বারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি।

    কুরুআন থেকে অসুস্থ ও দুর্বলদের প্রতি করুণা

    কুরআন শিকিয়েছে যে আমরা পরস্পরের প্রতি সদয় ও দয়ালু হই। আল্লাহ তায়ালা বলেন:আর তোমরা পরস্পরের প্রতি করুণা করো, যাতে তোমরা দয়ালু হও।— সূরা আল-আম্বিয়া:১০৭) এই আয়াত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয় যে, আমাদের উচিত শুধু আত্মীয় বা বন্ধুর প্রতি নয়, সকল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। অসুস্থ ও দুর্বল মানুষ—যারা মানসিক বা শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছে—তাদের প্রতি দয়াশীল হওয়াই মুসলিমদের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য।
    আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন:
    “মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সে, যে অন্যদের জন্য উপকারী।— (সূরা আল-মুমতাহিনা:৮ ) এটি নির্দেশ দেয় যে সাহায্য ও সেবা দেওয়া কেবল শারীরিক নয়, বরং আত্মিক ও সামাজিকভাবে উপকারী হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে সহমর্মিতা কেবল একটি মানবিক গুণ নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ।

    নবীর (সা.) উদাহরণ: অসুস্থদের প্রতি সদয়তা

    মহানবী (সা.) অসুস্থ ও অসহায়দের প্রতি সদয় হওয়ার গুরুত্ব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন:যে ব্যক্তি একজন অসুস্থকে দেখতে যায়, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য রাহমত প্রেরণ করবেন।— (সহীহ বুখারী:৫৬৭৮ ) এটি আমাদের শেখায় যে, একজন মুসলিমের কর্তব্য হল অসুস্থদের পাশে থাকা, তাদের প্রতি দয়াশীল মনোভাব প্রদর্শন করা এবং তাদের জন্য আল্লাহর দোয়া করা।

    নবী (সা.) আরও বলেছেন:যে ব্যক্তি একজন অসহায় বা অসুস্থের প্রতি সদয় হয়, আল্লাহও তার প্রতি সদয় হবেন।— (সহীহ তিরমিজি:১৯১৯)
    এই হাদিসগুলি নির্দেশ দেয় যে অসুস্থদের প্রতি সদয়তা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    রোগ ও পরীক্ষা: ইসলামিক দৃষ্টিকোণ

    ইসলামে রোগকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন:আপনাদেরকে আমি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করি, এবং প্রতিটি পরীক্ষার পরে একজন ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করি।”
    — (সূরা আল-বাকারা:১৫৫) অতএব, কুষ্ঠ রোগ বা যে কোনো অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ধৈর্য, সহানুভূতি এবং দয়া প্রদর্শন করা মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি একজন অসুস্থের প্রতি সদয় হয়, আল্লাহও তাকে পরম করুণায় আবৃত করেন।—( সহীহ মুসলিম:২৫৮৮) এটি আমাদের শেখায় যে অসুস্থদের প্রতি সদয়তা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম।

    মানবিক দায়িত্ব: ইসলামের শিক্ষার আলোকে

    ইসলাম শিক্ষা দেয় যে অসুস্থ, দুর্বল বা অসহায় ব্যক্তির প্রতি করুণা প্রদর্শন করা মুসলিমদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। নবী (সা.) বলেছেন:
    যে ব্যক্তি একজন অসুস্থ বা অসহায়কে সহায়তা করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করবেন।— (সহীহ তিরমিজি:১৯২০)
    এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায় যে আমাদের আচরণে সদয়তা, সহমর্মিতা এবং সাহায্য প্রদর্শন ইসলামের মূল নীতি। অসুস্থদের পাশে থাকা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    অসুস্থদের প্রতি সদয় আচরণের গুরুত্ব

    ইসলামের শিক্ষায় অসুস্থদের প্রতি সদয় হওয়া শুধু ভালো আচরণের অংশ নয়। এটি ঈমানের চিহ্ন হিসেবেও বিবেচিত হয়। নবী (সা.) বলেছেন:যে ব্যক্তি একজন অসুস্থকে দেখতে যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত প্রস্তুত করেন।— (সহীহ মুসলিম:২৬২৫) অর্থাৎ, অসুস্থদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দয়া নয়, এটি আধ্যাত্মিক কল্যাণেরও পথ। একজন মুসলিমকে সর্বদা দয়া, সহানুভূতি এবং মানবিক আচরণ প্রদর্শন করতে হবে, বিশেষ করে যারা শারীরিক বা মানসিকভাবে দুর্বল।

    কুষ্ট রোগীদের ইসলামী দৃষ্টিকোণ

    যদিও কুষ্ট রোগ শারীরিকভাবে চিকিৎসাযোগ্য, ইসলামে তাদের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। ইসলামে কুষ্ঠ রোগীদের প্রতি সদয় হওয়া, তাদের পাশে থাকা এবং সাহায্য করা মানবিক ও ধর্মীয় কর্তব্য।নবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে একজন মুসলিমের পরিচয় হল দয়ালু, সহানুভূতিশীল এবং অসহায়দের সাহায্যকারী হওয়া। কুষ্ঠ রোগী বা অন্য কোনো অসুস্থ ব্যক্তি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা; তাদের প্রতি সদয় আচরণ আমাদের আধ্যাত্মিক কল্যাণ ও ধর্মীয় কর্তব্য নিশ্চিত করে।

    পরিশেষে বলতে চাই, জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার পালিত বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অসুস্থ ও দুর্বলদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করা কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি ইসলামের মূল শিক্ষা। কুরআন এবং হাদিস আমাদের নির্দেশ দেয় যে অসহায়দের প্রতি সদয় হওয়া, সাহায্য করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
    “মানুষের সেবা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ।”এই দিনটি মুসলিমদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে আমরা সমাজের সকল অসুস্থ ও দুর্বলদের প্রতি সদয়,সহানুভূতিশীল এবং সাহায্যকারী হই। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে একজন প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় হল দয়ালুতা, সহমর্মিতা এবং মানবিক দায়িত্ব পালন।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    S M T W T F S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031