মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী
উপজেলা প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়ার নিজ বাড়িতে আয়োজিত ভুরিভোজকে ঘিরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীচায় অবস্থিত প্রার্থীর নিজ বাড়িতে দুটি গরু জবাই করা হয়। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনটি ওয়ার্ডের দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য ভুরিভোজের আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ধরনের আয়োজন নির্বাচনকালীন আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকের পক্ষ থেকে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে খাওয়া-দাওয়া, ভোজ বা উপহার প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন ভোটে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক জানান, নির্বাচনী সময়ে ভুরিভোজের মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হলে তা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। তারা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়ার বাড়িতে দুটি গরু জবাই করে ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের আরও উজ্জীবিত ও মাঠে সক্রিয় রাখার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।”
ভুরিভোজকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই এটিকে নির্বাচনী সময়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একত্রিত ও সংগঠিত করার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“১৯ জানুয়ারি আমার স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। তবে ওই দিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী থাকায় আমি তা পালন করিনি। পরে ২৩ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছি। এর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার কোনো সম্পর্ক নেই।

