জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুর।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান রয়েছে।
শনিবার (২১/০২/২৬ ইং) মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা সদরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং কালকিনি পৌরসভা কার্যালয়ে জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখার সরকারি বিধান থাকলেও এ দিন প্রতিষ্ঠান দুটিতে পতাকাই উত্তোলন করা হয় নাই।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের বিপরীতে থাকা কালকিনি পৌরসভা কার্যালয় এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে পতাকা অর্ধনমিত তো দূরের বিষয় সেখানে পতাকা উত্তোলিতই ছিল না।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে। সচেতন নাগরিকরা এই অবহেলাকে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন এবং জাতীয় পতাকার প্রতি অসম্মান হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণের সাথে কথা বললে তারা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে জাতীয় পতাকা না লাগানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজজুল হক বেপারী এ বিষয়ে বলেন, প্রতিদিন যে পতাকা উত্তোলন করে, তিনি অসুস্থ থাকায় হয়তো পতাকা লাগাতে পারেননি। আমি সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রোগ্রামে ব্যস্ত থাকায় খোঁজ নিতে পারিনি। তবে পতাকা না টানানো ঠিক হয়নি।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইফ উল আরেফিন জানান, ২১ই ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেখানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার কথা। কালকিনি পৌরসভায় পতাকা কেন এদিন উত্তোলন করা হয়নি, বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

