নীলফামারী প্রতিনিধিঃ মোঃ মোকলেছুর রহমান বাবু
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ইজারাকৃত কৈমারী হাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গরু-ছাগল ক্রেতা বিক্রেতাদের চাপে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন কৈমারী ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। অভিযোগ কারীরা হলেন, ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মামনুর রশিদ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান, ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মমিনুর রহমান, শ্রমিক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সমবায় দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম। কৈমারী হাট-বাজারে অবৈধ ভাবে সরকারি বিধি অমান্য করে গরু-ছাগলের অতিরিক্ত টোল আদায়, অটো রিক্সা ভ্যানের চাঁদা উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
গত শনিবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে কৈমারী হাটে গেলে দেখা যায়, টোল চার্টার মোতাবেক গরু প্রতি ৫০০ টাকা, কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গরু ক্রেতাদের নিকট হইতে ৭০০ টাকা রশিদ ও বিক্রেতার নিকট ২০০ টাকা চাঁদা গরু প্রতি মোট ৯০০ টাকা নেয়ার দৃশ্য দেখা যায়। সরকারের নির্ধারিত ফি ছাগল প্রতি ১৫০ টাকা উত্তোলনের কথা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। এছাড়াও হাঁস-মুরগি ও কবুতর ঝুড়ি প্রতি ১০ টাকা নেয়ার কথা কিন্তু একটি করে হাঁস মুরগি ও কবুতরে ক্রেতা- বিক্রেতাদের নিকট ২০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। তামাক প্রতি মন ২০ টাকা নেয়ার কথা, কিন্তু মন প্রতি ৪০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এভাবে হাট-বাজারে ওঠানো ক্রয় বিক্রয়ের সামগ্রী গুলোতে গলাকাটা টোল আদায় করা হচ্ছে, এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে জানা যায়, এইসব বিষয় নিয়ে কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি ধামকিসহ নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে জানিয়েছেন অনেকে। গরু ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন চন্দ্র রায়, মোখলেছুর রহমান ও শাহ্ আলমদের মতো অনেকে জানান, আমরা গরু বিক্রি করলে আমাদেরকে গরু প্রতি ২০০ টাকা চান্দা দিতে হয়, গরু ক্রেতাদেরকে ৭০০ টাকা রশিদের মূল্য দিতে হয়। মজার ব্যাপার হলো রশিদের শুধু গরু মূল্য দেখা গেলেও রশিদের মূল্য দেখা যায়নি। হাঁস-মুরগি হাটি ও কামার পট্রিতে গেলে আব্দুল মজিদ, নুর আলম, খয়রাত হোসেন ও আশিকুর রহমান এর সাথে কথা হলে তা একটা হাঁস অথবা একটা মুরগি কিনলে ক্রেতা এবং বিক্রিতার কাছে ২০ টাকা নেওয়া হয়, তরকারি কুটার বডি, দা, বাইশ এবং কোদাল কেনাবেচা করলে উভয়ের কাছে চান্দা নেয়। খযরাত হোসেন বলেন, মুই তরকারি কুটার কাঠারি কিনছুং ৫০ টাকার কাটারিতে ৫ টাকা দিতে হইছে। কৈমারী হাটে আসা অনেকেরই অভিযোগ, এভাবেই চাঁদা উত্তোলন করলে আগামীতে আরো কঠিন অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেকে বলেন এখনেই লাগাম টানতে হবে নইলে, ভয়াবহতার সম্মুখীন হতে হবে।
অভিযোগকারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মামনুর রশিদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অঙ্গীকার চাঁদা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে কাজ করতে চাই। শুধু কৈমারীর হাট নয়, কৈমারী ইউনিয়নকে চাঁদা ও দুর্নীতি মুক্ত করব। বিএনপি সরকার গঠনের দুইদিন পরেই আমরা এই অভিযোগ করেছি এখন পর্যন্ত কোন প্রশাসনের টনক নড়েনি কোন ব্যবস্থাও নেয়নি। তিনি বলেন, আর ক’টাদিন যাক প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে কৈমারী হাট ইজারাদার এমদাদুল হক জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পরেও ঘাটতি পূরণ করতে পারব না, আমার ২০/৩০ লক্ষ টাকা লোকসন
গুনতে হবে । আপনারা হাটে এসেছেন ভালো করে দেখবেন, হাট ভাংছে ১৬টি গরু কেনা-বেচা হয়েছে। তাহলে বলেন দেড় কোটি টাকার হাটে ১৬টি গরু, ২০/৩০ টি ছাগল কেনাবেচা হইলে, আমার সম্পদ বিক্রি সরকারি কোষাগারে টাকা দিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়েছি বন্ধের দু’দিন আগে, আজকে প্রথম অফিস, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোন এখতিয়ার নেই। তদন্তে যদি এরকম কোন প্রমাণ মেলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

