বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নে অবস্থিত শত বছরের পুরোনো পবিত্র রওজা হযরত মেছেরশাহ (রহ.)–এর বার্ষিক ওরস ও ঐতিহ্যবাহী মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ওরস ও মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি হযরত মেছেরশাহ (রহ.)–এর অলৌকিকতা ও মানবসেবার কথা শুনে আসছেন। তিনি ছিলেন একজন সাদামাটা, নিরহংকার মানুষ, যিনি সারাজীবন আল্লাহর ইবাদত ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এই রওজায় এসে মানুষ মানত করে উপকার পায় বলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও আশেকানরা এখানে ছুটে আসেন।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি পবিত্র রওজা। এখানে কোনো প্রকার মাদক, গাঁজা বা অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ নেই। পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। এই ওরস ও মেলা আগামী ১০ দিন ধরে চলবে।
মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় নানা ধরনের দোকান বসেছে—মিষ্টির দোকান, কসমেটিকস, খাট-পালং, শিশুদের খেলনা, চরক গাছসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ।
রাতে রওজা প্রাঙ্গণে ভক্তরা জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। ভক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, “এই দরবারে আসলে মন ও আত্মার শান্তি পাই। এখানে এলে হৃদয়ের অশান্তি দূর হয়ে যায়।”
স্থানীয়দের মতে, এই ওরস ও মেলা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতিবছর এই মেলাকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলা ঘটে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নে অবস্থিত এই পবিত্র রওজাটি বহু বছর ধরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

