মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমান বলেছেন, পবিত্র মাহে রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র পরিবর্তনের শিক্ষা দেয়। একজন সত্যিকারের রোজাদার কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারেন না। তাই এবারের রোজা হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি দণ্ডবিধির ১৬১ থেকে ১৬৫ ধারার উল্লেখ করে সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ ও দুর্নীতির ভয়াবহতা এবং এর আইনি ও ধর্মীয় পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
আইনের দৃষ্টিতে দুর্নীতি ও দণ্ড
এমপি মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন যে, দণ্ডবিধির ১৬১–১৬৫ ধারা অনুযায়ী সরকারি কাজে কোনো প্রকার অবৈধ সুবিধা বা ঘুষ গ্রহণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি ধারাগুলোর মূল বক্তব্য সহজভাবে তুলে ধরেন:
ধারা ১৬১: সরকারি কর্মচারী বৈধ পারিশ্রমিক ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা নিলে তা অপরাধ।
ধারা ১৬২ ও ১৬৩: ঘুষের বিনিময়ে সরকারি কর্মচারীকে প্রভাবিত করা বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর অজুহাতে অর্থ গ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ধারা ১৬৫: কাজের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে বিনা মূল্যে বা অস্বাভাবিক কম মূল্যে কোনো মূল্যবান বস্তু গ্রহণ করাও অপরাধের শামিল।
আইনি শাস্তির পাশাপাশি দুর্নীতির পরকালীন ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পবিত্র হাদিসে এসেছে— “ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ই জাহান্নামী।(সুনানে ইবনে মাজাহ ২৩১৩)। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় বিধান ও নৈতিকতা মেনে চললে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব।
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান
এমপি মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, রোজা আমাদের ধৈর্য ও সততার শিক্ষা দেয়। সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা যেন দুর্নীতির মোহে না পড়েন, সেই আহ্বান জানান তিনি। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তিগত সততা ও রোজার শিক্ষা সম্মিলিতভাবে প্রয়োগ করলে একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
আসুন, আমরা পবিত্র রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ থেকে দুর্নীতির অন্ধকার দূর করি।
মোঃ মুজিবুর রহমান এমপি, রাজশাহী-১

