রবিউল আলম, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ইরি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম চালাতে ডিজেল তেল সংগ্রহে কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা গেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) ভোর সাড়ে ৬টা থেকেই দৌলতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাজী স্টোরের সামনে হাতে ড্রপ, কাতি ও বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কৃষকদের। ইরি সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহে কৃষক-কৃষাণীদের এমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
হাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আহসান উল্লাহ জানান, “আমরা মোট ২২ ব্যারেল ডিজেল তেল পেয়েছি। এর মধ্যে ১০ ব্যারেল পাইকারদের দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১২ ব্যারেল স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে খুচরা বিক্রি করা হবে। প্রতি লিটার ১০২/- (একশত দুই) টাকা, জনপ্রতি ৫ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। প্রায় এক থেকে দেড় সপ্তাহ পর আমরা নতুন একটি চালান হাতে পেয়েছি।”
এ সময় কৃষক-কৃষাণী, মা-বোনসহ অনেককেই তেল নেওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
কয়েকজন কৃষক জানান, প্রতিদিন সেচের জন্য তাদের ১০ থেকে ১৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সেখানে ৫ লিটার তেল দিয়ে প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। তাছাড়া পরদিন আবার তেল পাওয়া যাবে কিনা সেটিও নিশ্চিত নয়।
তারা বলেন, “এভাবে যদি তেল ও সারের সংকট থাকে, তাহলে কৃষিকাজ পরিচালনা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।”
ডিজেল সংগ্রহ করতে আসা কৃষাণী চক সমেতপুর গ্রামের- রেহেনা বলেন, “তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সোনার হরিণের মতো। কৃষি উপকরণ—তেল ও সার সংগ্রহের এই যুদ্ধ কি কোনোদিন শেষ হবে না?
আমরা কি শান্তিতে কৃষিকাজ করতে পারব না?”
তিনি জাতির কাছে এই প্রশ্ন তুলে ধরেন।

