জাকিয়া সুলতানা ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ)।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই সময়ে অন্যান্য বছরের চেয়ে দুই উপজেলায় তুলনামূলক বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দুপুরের পর হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রাতে কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে শিলা, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে থাকে। এতে দুই উপজেলার ছোট-বড় বিভিন্ন হাওরের বোরো ধান ও ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মধ্যে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোর মৌসুমে দুই উপজেলার মোট ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮০ টি হাওরে ৩১৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে । আর কিছুদিনের মধ্যেই কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু হঠাৎ করে শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম হাওরের কৃষক মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, এ বছর হাওরের পরিস্থিতি ভাল মনে হচ্ছে না। ধানে মাত্র শিষ আসতে শুরু করেছে। বোরো ধানের গাছের গর্ভাশয়ে আঘাত হেনেছে। এ সময় যদি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি বাড়ে তাহলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তার সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে এলে ফসল রক্ষা বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। মধ্যনগর উপজেলার হলদি হাওরের কৃষক আবুল মিয়া বলেন, হঠাৎ করে বৃষ্টির সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়ছে। এসব শিলা ফসলি জমিতে পড়লে ধানের শিষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় একাধিক টিনের ঘরসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে মধ্যনগরের সুরেশ্বরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন,দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে কিছু কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং গত দুই -তিন ধরে রাতে কয়েক দফা শিলা পড়েছে। সেই সঙ্গে হাওরাঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াও বইছে। তবে এখনও পর্যন্ত ধানের শিষের বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

