সুলাইমান পোদ্দার ,তজুমদ্দিন (ভোলা)।।
ভোলার তজুমদ্দিনে জ্বালানি তেল পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত তিন চারদিন ধরে উপজেলার খুচরা দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় যানবাহন চালকরা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামেও মিলছে না পেট্রোল, অকটেন। ফলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জ্বালানি তেলের সংকটে বিশেষ করে মোটরসাইকেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে অফিস আদালত ও বিভিন্ন কোম্পানি কর্মকর্তা /কর্মচারীদের অফিসে ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করাতে চরম অসুবিধায় শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক ও মসজিদে লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎের বিকল্পে জেনারেটর ব্যাবহৃত হলে ও পেট্রোলের অভাবে বন্ধ রয়েছে জেনারেটর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক খুচরা জ্বালানি তেল বিক্রির দোকান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব দোকানের অর্ধেকের বেশি বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়েকটি দোকান খোলা আছে সেখানেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে তজুমদ্দিনে পেট্রোলে ট্যাংকার আসলেও এই সপ্তাহে কোন ট্যাংকার আসেনি ফলে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ না থাকায় তারা বিক্রি করতে পারছে না ।
এদিকে শশীগঞ্জ বাজারের হোন্ডা চালকরা পেট্রোল ও অকটেন তজুমদ্দিনে না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। হোন্ডা ড্রাইভার মিজান বলেন, আগে তজুমদ্দিনের সব সময় পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যেত এতে আমরা মোটরসাইকেল নিয়ে যে কোন যায়গায় যাওয়ায় জ্বালানি তেলের কোন চিন্তা করতে হতো না কিন্তু এখন ইচ্ছে করলে যাত্রী নিয়ে ও নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে জ্বালানি সংকটে দূরে কোথাও যেতে পারি না। তজুমদ্দিনে মোটরসাইকেল দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখানকার সবচেয়ে সহজ যাতায়াত মাধ্যম হলো মোটরসাইকেল, কিছুদিন পর ঈদে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ এসে এলাকায় যাতায়াতের অসুবিধায় পরতে হবে।
কৃষক, ট্রলার চালক ও সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, দ্রুত তেলের সংকট দূর করে পূর্বের মতো খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেরই অভিযোগ তজুমদ্দিনে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট, বেশি দামে তৈল বিক্রির জন্য গোডাউনে তৈল মজুদ রেখে এখন বিক্রি বন্ধ রাখছেন।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, উপজেলার খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল মজুদ না রেখে বিক্রয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ জ্বালানি তেল মজুদ করলে ও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

