যশোর শহরের আর এন রোডে অবস্থিত ক্যাফে নুর হোটেল-এর খাবার খেয়ে পাঁচজন অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নুর হোটেলের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন পত্রিকা ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরই বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে হোটেলটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা হোটেলের ফ্রিজে বাসি মাংস ও পচা খাবার পান। এছাড়া রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন এবং সর্বত্র তেলাপোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিরিয়ানি তৈরির উপকরণে কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম বা মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেল থেকে ২৪ প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে নেওয়ার পর তা খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে বুধবার সকালে তার নেতৃত্বে একটি দল হোটেলটিতে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রাপ্ত অনিয়মের ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ৫০ হাজার টাকা, ৩৭ ধারায় ২৫ হাজার টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনে ব্যর্থতার দায়ে আরও ২৫ হাজার টাকা—মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে হোটেলের মালিক মুকুল হোসেন বকুলকে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও পুলিশের সদস্যরাও অংশ নেন।
উল্লেখ্য, যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর নালিয়া এলাকার কয়েকজন বন্ধু ও সহকর্মী ঈদ উপলক্ষে আড্ডার আয়োজন করেন। তারা মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ক্যাফে নুর হোটেল থেকে ২৪ প্যাকেট মুরগি ও খাসির বিরিয়ানি কিনে নেন। পরে একসঙ্গে বসে এবং বাড়িতে নিয়ে খাওয়ার পরপরই কয়েকজনের পেটে তীব্র ব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরিস্থিতি খারাপ হলে তারা রাতেই হোটেলে গিয়ে অভিযোগ জানান, এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোটেলের মালিককে ওই বিরিয়ানি খেতে দেওয়া হলে তিনি নিজেই খাবারটি নষ্ট বলে স্বীকার করেন। পরে বিক্ষুব্ধদের চাপে তিনি বিরিয়ানির মূল্য ফেরত দেন এবং ভুল স্বীকার করেন। এই ঘটনাই রাতদিন নিউজে প্রকাশিত হলে পরদিন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালায়।

