শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মোঃ দিলুয়ার হোসেন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার উত্তর ছায়ার হাওরের কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন ও বছরের এক মাত্র ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাওর পাড়ের হাজারো কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ নিচু জমির ধান এখন পানির নিচে। তবে বোরো জমি পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে ।
উপজেলার বাহারা, আটগাঁও , হবিবপুর ইউনিয়ন , শাল্লা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল গুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৃষ্টির পানিতে । এই দৃশ্যটি সত্যিই উদ্বেগের। এটি হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ । বৃষ্টির পানিতে জমি ডুবে গেলে পুরো বছরের পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে । কৃষকের দাবি দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে ধান গাছ পচে যাবে । ফলে কৃষকরা জানান হাওর রক্ষা বাঁধ কেটে না দিলে বোরো ফসল পচে যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে শত শত ভুক্তভোগী কৃষক মাউতির বিলের বাঁধে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি দরখাস্ত দাখিল করে ও কৃষকরা পানি ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে শাল্লা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২ দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে এই সংকটের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী ওবায়দুল হকের অনুপস্থিতি ও ফোন রিসিভ না করায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে তাঁরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

