মোঃ জুয়েল রানা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ;
মহান স্বাধীনতা দিবসের ৫৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রওশন কবির, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্নার, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত আলী সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জেলা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী,নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মানোয়ার হোসেন, নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রভাষক আবুল কাশেম, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ অনেকে।
১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে স্মরণ করে ডিমলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা জুড়ে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আমাদের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। তারা আরও বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।
অনুষ্ঠানে অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়। পরিশেষে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

