মোঃ সেলিম রেজা, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিয়মিতভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করে সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনা করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ০১০০ ঘটিকা থেকে সকাল ০৬.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দর এলাকায় চিরিরবন্দর থানা পুলিশের সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ২ জন আসামিকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মোট ৩০.৬০০ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের ২টি মূর্তি (উমা-মহেশ্বর ও বিষ্ণু) উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন:
১। শ্রী তাপস চন্দ্র রায় (৩০), গ্রাম: পশ্চিম সাইতারা, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।
২। শ্রী পরেশ চন্দ্র রায় (৬০), গ্রাম: নশরৎপুর, রানীরবন্দর, দিনাজপুর।
পরবর্তীতে একই উপজেলার ভূষিরবন্দর এলাকায় পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৬৪.৯০০ কেজি ওজনের একটি মূল্যবান বেলে পাথরের শীলা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুসমূহ কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, “পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, ১৯৬৮” (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী এ ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি ও বেলে পাথরের শীলার মোট আনুমানিক মূল্য ১,১৩,০৫,০০০/- (এক কোটি তেরো লক্ষ পাঁচ হাজার) টাকা। আটককৃত আসামি এবং আলামতসমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর সদস্যরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

