তথ্য সংগ্রহ (MD Jahidul Islam)
27/3/2026
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তার প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চলমান সংঘাত থামাতে হলে এখন ইরানকেই উদ্যোগী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে।
শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তেহরান বর্তমানে একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ওয়াশিংটন আদৌ সেই চুক্তিতে আগ্রহী কি না বা তা করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনা করার সুযোগ এখন ইরানের ওপরই নির্ভর করছে এবং সঠিক শর্ত ছাড়া কোনো সমঝোতা হবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি নেতাদের ‘দক্ষ আলোচক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তাদের ‘দুর্বল যোদ্ধা’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি জানান, তেহরান আলোচনার টেবিলে আসার আগ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী বাধা ছাড়াই তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।
একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance দাবি করেছেন, চলমান এই যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য এনে দিয়েছে। ভ্যান্সের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় পথেই নতুন বিকল্প তৈরি করেছে। তিনি এই সামরিক পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
হোয়াইট হাউসের মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio, প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের পক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
তারা মনে করেন, সামরিক চাপের মাধ্যমেই ইরানকে একটি স্থায়ী ও কঠোর চুক্তিতে বাধ্য করা সম্ভব। তবে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কঠিন শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে এই সংঘাত কতদূর গড়াবে।
বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চাইলেও ইরান তাদের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যুদ্ধবিরতির চাবিকাঠি এখন তেহরানের হাতেই।

