স্টাফ রিপোর্টারঃ
শরীয়তপুর সদর উপজেলার ভাষানচরের বাবুল ফকিরকে পূর্ব শত্রুতার জেরে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে বাবুল ফকির শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় বাবুল ফকিরের স্ত্রী সাথী বেগম বাদী হয়ে ২৭ মার্চ, শুক্রবার শরীয়তপুর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে স্থানীয় মৃত কাজীম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মোস্তফা হাওলাদার (৬৩), মৃত হামেদ হাওলাদারের ছেলে জসীম হাওলাদার (৪০), গণি হাওলাদারের ছেলে মেছের হাওলাদার (৩৮), নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে মিয়াচান হাওলাদার (৩৫), গণি হাওলাদারের ছেলে মিজানুর হাওলাদার (৩০), মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে আজিজুল হাওলাদার (৩২), মৃত নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে আমিনুল হাওলাদার (২৮) সহ আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এজাহারে বাদী সাথী বেগম উল্লেখ করেন,
আসামীদের সহিত আমার স্বামীর জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ব শত্রুতা চলিয়া আসিতেছে। উক্ত পূর্ব শত্রুতার বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া আসামীরা আমার স্বামীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি সহ হুমকি প্রদান করে। আমার স্বামী বাবুল ফকির ওরফে বাবুল মিয়া (৪৫) আংগারিয়া বাজার হইতে সরিষা বিক্রি করে টাকা নিয়া বাড়িতে আসার পথে ইং ২৬/০৩/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় পালং মডেল থানাধীন চরপাতাং সাকিনস্থ রব হাওলাদারের বাড়ীর পশ্চিম পাশে কাঠের পুলের ঢালে পাকা রাস্তার উপর ভ্যান যোগে পৌছামাত্র উক্ত আসামীগণ ধারালো ছ্যানদা, লোহার হাতুড়ী, লোহার রড, কাঠের লাঠি সহ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্র নিয়া আমার স্বামীর পথরোধ করিয়া অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। আমার স্বামী আসামীগণকে গালি গালাজ করিতে নিষেধ করিলে ১নং আসামী মোস্তফা হাওলাদার হুকুম দিয়া বলে শালার বেটাকে এখানেই জীবনে শেষ করিয়া লাশ গুম করিয়া দে, এই হুকুমের সাথে সাথে সকল আসামীগণ বে-আইনী জনতাবদ্ধে আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলাফুলা জখম করে। ২নং আসামী জসীম হাওলাদারের হাতে থাকা ধারালো ছ্যানদা দিয়া আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দ্যেশে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ মারিলে আমার স্বামী বাম হাত দিয়া ফিরাইলে আমার স্বামীর বাম হাতের মধ্যমা ও অনামিকা আঙ্গুলের মাঝে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ৪নং আসামীর হাতে থাকা লোহার হাতুড়ী দিয়া আমার স্বামীর শরীরের বিভিন্নস্থানে পিটাইয়া মারত্মক নীলাফুলা জখম করে এবং বাম হাত পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য হাতুড়ী দিয়া পিটাইয়া বাম হাতের নলীতে হাড়ভাঙ্গা জখম করে। আমার স্বামী মাটিতে লুটাইয়া পড়িলে ৩,৫,৬ ও ৭নং আসামীগণ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণ তাহাদের হাতে থাকা লোহার হাতুড়ী, লোহার রড, কাঠের লাঠি সহ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্র দিয়া শরীরের বিভিন্নস্থান সহ দুই পায়ের হাটু হইতে পায়ের পাতা পর্যন্ত পিটাইয়া মারত্মক নীলাফুলা জখম করে। ৩নং আসামী আমার স্বামীর লুঙ্গীর বাম গোচরে থাকা সরিষা বিক্রি করার নগদ ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) টাকা নিয়া যায়। আমার স্বামীর আত্মনাত ও ডাক-চিৎকারে স্বাক্ষী সহ আশ পাশের লোকজন আগাইয়া আসিয়া আসামীদের কবল থেকে আমার স্বামীকে রক্ষা করে। ঘটনাস্থলে লোকজনের ভীর বাড়তে থাকলে আসামীগণ আমার স্বামীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি সহ খুন জখমের হুমকি প্রদান করিয়া চলে যায়। ঘটনাস্থলে আমার স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখিয়া স্থানীয় লোকজন অটোগাড়ী যোগে আমার স্বামীকে আহত অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

