শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তেলের সঠিক মজুত ও বিতরণ তদারকির জন্য বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘ট্যাগ অফিসার’। পাশাপাশি ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ নীতি বাস্তবায়নে কড়াকড়ি আরোপ করায় পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিক্রয় তদারকির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি, পরিবার পরিকল্পনা ও পল্লী উন্নয়নসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপস্থিত থেকে তদারকি করবেন।
দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া জ্বালানি না দেওয়ার নির্দেশনাটি সাইনবোর্ড ও কাগজে লিখে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম বাস্তবায়নের ফলে পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। হেলমেট ছাড়া আসা চালকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আইসিটি কর্মকর্তা এবং পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে— পাম্পের দৈনিক জ্বালানি মজুত যাচাই করা, ডিপো থেকে আসা তেলের পরিমাণের সঙ্গে বিক্রির হিসাব মেলানো, ডিপ-রড ব্যবহার করে তেলের সঠিক উচ্চতা পরীক্ষা করা এবং বিক্রয় রেজিস্টার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
এ ছাড়া পাম্পের মেশিনে কোনো কারচুপি আছে কি না বা কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত করছে কি না, তাও তদারকি করবেন তারা। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় তেলের হালনাগাদ তথ্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট রোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে, অন্যদিকে সড়কে চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

