তৌহিদুল ইসলাম শামিম, হিলি (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের বাংলাহিলি রেলওয়ে স্টেশন থেকে পিডব্লিউ (পথ ও প্রকৌশল) অফিস সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ে গাছ পড়ে ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি সংস্কার না করে অফিসটি জয়পুরহাটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশন থেকে একসময় বিরামপুর থেকে সান্তাহার পর্যন্ত রেলপথের ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রম পরিচালিত হতো। লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, সিগন্যালিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই পিডব্লিউ অফিস থেকেই পরিচালিত হতো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অফিস সরিয়ে নেওয়ার ফলে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। কোনো সুরক্ষিত ভবন না থাকায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রেলওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার খাঁন বলেন, “হিলি রেলস্টেশন আমাদের গর্বের জায়গা। কিন্তু অফিস সরিয়ে নেওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে যাচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় সেগুলো হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
আরেক বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশন থেকে অফিস সরানোর ফলে এলাকার রেল উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে।”
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পিডব্লিউ অফিসের স্থানটি বর্তমানে অনেকাংশে অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে। সেখানে গবাদিপশুর চারণভূমিতে পরিণত হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন দ্রুত পিডব্লিউ অফিস পুনরায় হিলিতে চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কারের দাবি জানান।
নাগরিক কমিটি হাকিমপুর, দিনাজপুরের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “হিলি রেলস্টেশন ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য বহন করে। এখান থেকেই একসময় সান্তাহার পর্যন্ত রেলপথের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। রেলের এই অবহেলা হিলির উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে।” তিনি একই সঙ্গে হিলি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিও জানান।
এ বিষয়ে রেলওয়ে হিলির ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী জানান, ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত জয়পুরহাটে অস্থায়ীভাবে অফিস পরিচালনা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সেখান থেকেই দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে।

