সারোয়ার নেওয়াজ শামীম, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
অবৈধ পথে লিবিয়ার সমুদ্র যোগে ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া নৌকার নিখোঁজ হয়ে ১৩দিন ধরে মিলছে না হবিগঞ্জের ৩৫ তরুণদের সন্ধান। মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। দালাল আজমিরীগঞ্জের শিবপাশা-পশ্চিমভাগ গ্রামের হাসান মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৪টি নৌকা লিবিয়ার তাজুরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে সমুদ্রে ১ অক্টোবর রওয়ানা হয়। এর মধ্যে ১টি নৌকায় হবিগঞ্জের ৩৫ জন যুবক ছিলেন। ওই যুবকদের মধ্যে ৩১ জন নিয়েছেন হাসান। হাসান জানান, সমুদ্র থেকে ইতালী পৌছতে ৫০ কিলোমিটার দুরত্ব রয়েছেন এমন তথ্য তাকে জানিয়েছিলেন নৌকার চালক। এরপর ৩০ মিনিট পর তিনি নৌকা চালকের নাম্বারে ফোন দিয়ে ফোনটি বন্ধ পান। হাসান আরো জানান, অনেক সময় ইতালীয়ান সীমান্ত রক্ষীদের হেফাজতে নেওয়া হলে তাদের সন্ধ্যান পেতে ১০/১৫ দিন লেগে যায়। আবার অনেক ২০দিন পরও সন্ধান পাওয়া হয়। তবে লিবিয়া কিংবা অন্য কোথায় আটক হলে তাদের সন্ধান পাওয়া যেত। এমনকি মৃত্যু হলেও তাদের লাশ উদ্ধার করার খবর পাওয়া যেত। তিনি বলেন-আমি এ পর্যন্ত ৩ হাজার লোককে ওই রাস্তা দিয়ে ইতালীতে পাঠিয়েছি। কারো কোন সমস্যা হয়নি। এসব যুবকদের আমি কোন প্ররোচনা দিয়ে আসার কথা বলিনি। তারা মনে করেন ওই রাস্তা দিয়ে আমি ভালো ভাবেই লোক পাঠাতে পারি। এ জন্য তারা স্বেচ্ছায় আমার সাথে যোগাযোগ করেন। যারা যান ইতালিতে পৌছে টাকা দেন। যে ৩১ জন যুবকদের এনেছি, তারাও আমাকে এখন পর্যন্ত কোন টাকা দেননি। তারা পৌছলে টাকা দেওয়ার কথা। তবে আমার কিছু প্রতিপক্ষ রয়েছেন তারা এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের কাছেও আমি যোগযোগ রাখছি। তারা কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমি তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেব। সূত্র জানায়, নিখোঁজ হবিগঞ্জবাসীর বেশিরভাগই জেলা সদরের উমেদনগর, বানিয়াচং উপজেলার সদর ও তারাসই এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ও পশ্চিমভাগ গ্রামের বাসিন্দা।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা তলাবপাড়া মহল্লার আলফাজ মিয়া রনি (২১), মোজাক্কির আহমেদ (২১), সিয়াম জমাদার (২১) ও মিজান আহমেদ (২০)। এ ছাড়া হবিগঞ্জের উমেদনগর, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ, জলসুখা ও বানিয়াচং উপজেলার তারাসই গ্রামের আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ আলফাজ মিয়া রনির বড় ভাই মনির মিয়া বলেন, গত ১ অক্টোবর সেপ্টেম্বর লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চারটি নৌকা ছেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি নৌকায় হবিগঞ্জের ৩৮ জনসহ প্রায় ৭০ জন ছিলেন, সেই নৌকাটিই নিখোঁজ হয়েছে। বাকি তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছেছে। তিনি আরও জানান, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী হাসান আশরাফের মাধ্যমে ওই ৩৮ জন ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা করে দিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্যোগ নেন।
রনি ও মোজাক্কিরের স্বজনদের ভাষ্য, হাসান আশরাফ তাদের দুজনের কাছ থেকে মোট ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। পরে ১ অক্টোবর নৌকায় তুলে দিয়ে বিষয়টি বাড়িতে জানানোর পর থেকেই তাদের আর কোনো খোঁজ মিলছে না। আশরাফের মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ।
একই ব্যক্তির মাধ্যমে ইতালি যাওয়া বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে আবুল কাশেম খোয়াইক বলেন, আমি ধারকর্জ করে ১৭ লাখ টাকা তাকে দিয়েছি। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে সে আমাকে ইতালি পাঠিয়েছে। আগে জানলে এ পথে কখনো আসতাম না। বানিয়াচং উপজেলা সদরের আরেক বাসিন্দা জানান, তার পরিবারের ছয় সদস্য আশরাফের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা করে দিয়ে ইতালি গেছেন। তবে তার আরও দুই আত্মীয় আশরাফের কাছে আটকা থাকায় পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

