মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীতে ছোট মাছ ও জাটকা নিধনের ঘটনা বৃদ্ধি এবং অবৈধ কারেন্ট, বেহুন্দি ও মশারি জালের বহুল ব্যবহারের কারণে নদীর মৎস্যসম্পদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ কম্বিং অপারেশন, যা জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার ধাপে পরিচালিত হবে।শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য নদী ও খালের অবৈধ জাল অপসারণ এবং মাছের প্রজনন সংরক্ষণ করা।অভিযানের প্রথম দিনেই নদীর বিভিন্ন অংশে উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক’শ মিটার নিষিদ্ধ জাল। অভিযান চলাকালে মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌপুলিশের সদস্যরা নদীর বাঁকে বাঁকে তল্লাশি চালাচ্ছেন। নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে এবং অবৈধ কার্যক্রম রোধ করা হচ্ছে।প্রশাসন বলেছে, নদীর অবৈধ বাঁধ, খুঁটি এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাও ধাপে ধাপে সরানো হবে।অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান।তিনি জানান, খোলপেটুয়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের উৎপাদন কমেছে। আমাদের এই কম্বিং অপারেশনের লক্ষ্য নদী ও খালগুলোকে নিষিদ্ধ জালমুক্ত করা এবং ছোট মাছ সংরক্ষণ করা। অভিযানটি চার ধাপে সম্পন্ন করা হবে। শুধু জাল অপসারণ নয়, নদীর অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতাও ধাপে ধাপে সরানো হবে।তিনি আরও বলেন, নিয়মিত অভিযান এবং প্রশাসনের নজরদারি নদীর মৎস্যসম্পদ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে সমন্বয় এবং সচেতনতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো নদীর উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওহিদুজ্জামান বলেন, নদীতে যারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খোলপেটুয়া নদী এবং এর খালগুলো সম্পূর্ণ জালমুক্ত এবং নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। আমরা চাই প্রতিটি জেলে নিয়ম মেনে মাছ আহরণ করে তাদের জীবিকা টেকসই করতে পারে।

