আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রামঃ
বরাবরের মতো এবারও বৃষ্টিরূপ কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে কুড়িগ্রাম। সেই সাথে কনকণে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না মানুষজন। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় ভুক্তভোগী অভাবী দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষজন সরকারিভাবে ভাবে শীতবস্ত্র বরাদ্দের বৃদ্ধির দাবী জানাচ্ছে।
আজ ৪ জানুয়ারি রবিবার সকাল ১১ টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য মতে আজ জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গেছে । বাতাসের আদ্রতা শতভাগ অনুভূত হওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েকদিন তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পরপরই শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন ঘরমুখো হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা, কোথাও যেন কেউ নেই। শহরে যাহবাহন নেই বললেই চলে। দূরপাল্লার বাস শহর ছেড়ে চলে গেলেই সব সুনসান। বিশেষ করে শ্রমজীবী অভাবগ্রস্ত ও ছিন্নমূল মানুষজন পড়েছে চরম বিপাকে। প্রত্যেক জায়গায় লোক সমাগম কমে গেছে। ঠান্ডা জনিত রোগে জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ রোগির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম অঞ্চলের মানুষজন কর্মহীনও হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা ১৬ নদী পরিবেষ্টিত। নদী কেন্দ্রীক এজেলার ৪৬৯ টি চরের মধ্যে ২৬৯ টি চরে মানুষের বসবাস। এসব চরাঞ্চলে প্রায় ৫ লক্ষ লোকজন রয়েছে। এছাড়া জেলার ৯ উপজেলার উপজেলা শহর কেন্দ্রীক আরও প্রায় লক্ষাধীক ছিন্নমূল মানুষ বসবাস করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ শীতবস্ত্রের জন্য হাহাকার করছে। উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শীতার্ত মানুষজন শীতবস্ত্রের জন্য ভীড় করতে দেখা যাচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে জানা যায়, জেলার ৯ উপজেলার জন্য এবারের শীত মৌসুমে সরকার থেকে ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই টাকা থেকে ২২ হাজার কম্বল ক্রয় করে বিতরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ত্রানের কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন গড় হিসেবে ৩২ হাজার মানুষের জন্য ১ শত কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরকারি এ বরাদ্দ অপ্রতুল। বে-সরকারি ভাবে কিছু সামাজিক সংগঠন, এনজিও প্রতিষ্ঠান সমন্বয়হীন ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের জন্য সরকারি ভাবে শীতবস্ত্র বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবী জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী শীতার্ত মানুষজন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে আসছে মাঘ মাসে বড়ধরণের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভবনা রয়েছে। আর এ রকমপরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এবং আগাম সতর্কতা নেয়া না হলে শীত জনিত কারণে অত্র অঞ্চলের অভাবগ্রস্ত দরিদ্র- ছিন্নমুল মানুষজনের মৃত্যু ঝুঁকিরও আশংকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

