মোঃআলামিন হোসেন তাড়াশ সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় উন্নয়নের নামে ভয়াবহ অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন অন্তত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, আর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার হাজারো সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও সামান্য মাটি ভরাট, কোথাও ইট বিছিয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে রাস্তার কাজ। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একেবারেই অচল হয়ে পড়ে রাস্তাগুলো।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাড়াশ উপজেলায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চিকদুল-নগর, বিনোদপুর-কুচনী-বিলাশপুর, নওগাঁ বাজার রোড, উপশহর-চলনবিল সংযোগ সড়ক এবং সরা ভাঙ্গা-মাধাইনগর-মাঝগ্রাম সড়কসহ একাধিক প্রকল্প রয়েছে। তবে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ভাঙাচোরা রাস্তায় পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ভুক্তভোগী আজিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“রাস্তার কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রেখে ঠিকাদাররা উধাও। আমরা কি শুধু প্রতিশ্রুতি শুনব? এই দুর্ভোগের দায় কে নেবে?”
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জানান,
“কিছু ঠিকাদার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কাজ বন্ধ রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে চুক্তি বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল থাকায় ঠিকাদাররা পার পেয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অসম্পূর্ণ সড়কগুলোর কাজ অবিলম্বে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উন্নয়নের নামে এমন অবহেলা ও অনিয়ম চলতে থাকলে জনস্বার্থ রক্ষা নয়, বরং আস্থাহীনতাই বাড়বে—এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।

