• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • হাদি হত্যায় বৈঠক করেন নানকসহ প্রভাবশালী আ.লীগ নেতারা 

     Ahmed 
    07th Jan 2026 7:59 am  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    অনলাইন ডেস্ক:     ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

    এদিকে মঙ্গলবার হাদি হত্যা সংক্রান্ত একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যমুনা টেলিভিশন। বলা হয়, সিঙ্গাপুরে বসে ওই নেটওয়ার্কের পাঁচ দিনব্যাপী একাধিক বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় এ হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা।

    এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এবং হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ।

    সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশনা ও সরাসরি পরিকল্পনায় হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়িত হয়। গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং তাকে সহযোগিতা করেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন শেখ। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা ভারতে পালিয়ে যান। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ফয়সালের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ ও দালাল ফিলিপ স্নাল নামে আরেক সহযোগীও তাদের দেশত্যাগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম ওরফে বাপ্পীর এই নির্দেশের কারণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদি একটি নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং তার বক্তৃতার মাধ্যমে সরকার, আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সত্য ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এসব সমালোচনার কারণেই আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলর ফয়সালকে হত্যা করতে বলেন। এ হত্যা মামলার তদন্তকালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

    আলোচিত সিঙ্গাপুর বৈঠক

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে বসেই চূড়ান্ত করা হয় শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ছক। এ উদ্দেশ্যে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছরের ২১ জুলাই সিঙ্গাপুরে যান। পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের চারজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইলিয়াস মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীসহ আরও একজন। সূত্রের দাবি, ৫ দিনব্যাপী ওই বৈঠকেই হত্যার চূড়ান্ত রূপরেখা, অর্থের লেনদেন এবং দায়িত্ব বণ্টন নির্ধারণ করা হয়। ২৬ জুলাই দেশে ফেরার পরপরই ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) খোলার তথ্য পায় তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক ও পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ।

    হাদি হত্যায় কার কী দায়

    ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তে গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট, পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। শরিফ ওসমান বিন হাদিকে সরাসরি গুলি করেন ফয়সাল করিম। তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। এই তিনজনই ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান।

    ডিবি জানায়, ফয়সাল করিমের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১) ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজ বাসায় আশ্রয় দেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংরক্ষণ করেন। আর ফিলিপ স্নাল (৩২) ফয়সালসহ অন্য আসামিদের সীমান্ত পারাপারে সরাসরি সহায়তা করেন।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২) ও সঞ্জয় চিসিম (২৩) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

    ফয়সাল করিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং নরসিংদীতে অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মা হাসি বেগম (৬০) ফয়সাল ও আলমগীরকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন। ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তারও (৪২) একইভাবে আসামিদের আশ্রয় দেন এবং অস্ত্র সংরক্ষণে সহায়তা করেন।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    S M T W T F S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031