নুর মোহাম্মদ কাকা
ওসমান হাদি হত্যার ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে শুক্রবার পুলিশের নৃশংস হামলা এই দেশের বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার কফিনে আরেকটি কালো পেরেক ঠুকে দিয়েছে। এই হামলা প্রমাণ করে, এই দেশে আজ খুনের বিচার নয়, বরং খুনিদের রক্ষা এবং প্রতিবাদীদের দমন করাই যেন রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ, ভয়ভীতি, গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে—ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো আজ অপরাধ, আর ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অপরাধ করাই নিরাপদ। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক দমননীতির অংশ, যার মাধ্যমে গুণীজন, সচেতন কণ্ঠ ও প্রতিবাদী শক্তিকে একে একে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।
হাদি হত্যাকাণ্ড এই রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতির আরেকটি রক্তাক্ত উদাহরণ। এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে যারা ন্যায়বিচারের দাবি তুলছে, তাদের উপর পুলিশি হামলা চালিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে—এই রাষ্ট্রে আজ খুনের চেয়ে বড় অপরাধ হলো খুনের বিচার চাওয়া।
যে পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষার শপথ নিয়েছে, আজ সেই পুলিশ ক্ষমতাশালীদের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে প্রতিবাদ দমন করা মানে সরাসরি জনগণের কণ্ঠরোধ করা। এটি কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার স্পষ্ট আলামত।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে—হাদি হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এই দেশে আইনের শাসনের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। যদি এই হত্যার বিচার না হয়, তবে এই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের জায়গা দখল করবে হায়েনা ও নরপিশাচের রাজত্ব। তখন দেশের অভিভাবক হবে না বিবেকবান মানুষ, বরং ক্ষমতালোভী ও রক্তপিপাসুরাই রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রকে পরিণত হবে।
আন্দোলন কারিরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিচ্ছে—লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ও ভয় দেখিয়ে এই দাবি দমন করা যাবে না। হাদি হত্যার বিচার এই দেশের বিবেকের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে ইতিহাস ক্ষমতাশালীদের ক্ষমা করবে না। জনগণ জেগে উঠলে কোনো পুলিশি লাঠি আর কোনো দমননীতি তাদের থামাতে পারবে না।

