নীলফামারী প্রতিনিধি
মিরাজ
২০২৪–২০২৫ অর্থ বছরের নীলফামারীর ডিমলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের খাদ্য তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন রোগীদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টিমানসম্মত খাদ্য সরবরাহের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তালিকায় মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, দুধ, তেল, সবজি ও মসলাসহ প্রতিটি উপকরণের পরিমাণ, দর, রোগী সংখ্যা ও মোট ব্যয়ের হিসাব বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাগজে-কলমে এই তালিকা রোগীদের জন্য যথেষ্ট ও মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা।
কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। খাদ্য তালিকায় যেখানে প্রতিজন রোগীর জন্য নির্দিষ্ট গ্রাম অনুযায়ী মাছ, ডাল ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের কথা, সেখানে বাস্তবে তার প্রায় ৫০ শতাংশও সরবরাহ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে মাছ, ডাল ও তেলের পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি চোখে পড়ে। তালিকায় রুই মাছ, ডাল মসুর ও সয়াবিন তেলের যে পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে, বাস্তবে তার অর্ধেকেরও কম রান্নাঘরে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
খাদ্য তালিকায় দেখা যায়, প্রতিদিন ৫০ জন রোগীর জন্য আলাদা করে হিসাব করে মোট কেজি ও মোট টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ রান্নাঘর ও পরিবেশিত খাবার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেই হিসাবের সঙ্গে বাস্তব সরবরাহের কোনো মিল নেই। রোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, খাবারে মাছের টুকরো খুব ছোট, ডাল পাতলা এবং তেলে রান্না প্রায় নামমাত্র। এতে অসুস্থ রোগীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
অভিযোগ উঠেছে, পথ্য ঠিকাদার মেসার্স শিরিন এন্টারপ্রাইজ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নিম্নমানের ও কম পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করে নিয়মিত বিল উত্তোলন করছে। এতে একদিকে সরকার নির্ধারিত অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্য খাদ্য থেকে। বিষয়টি তদারকির অভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
সচেতন মহলের মতে, শুধু তালিকা প্রণয়ন করলেই হবে না, বাস্তব সরবরাহ নিয়মিত তদারকি না করলে এ ধরনের অনিয়ম চলতেই থাকবে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী শতভাগ মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

