এনামুল আদমদীঘি প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে দাপটের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে পাঁচটি ইটভাটা। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এসব ভাটায় ইট পোড়ানো ও বিপণন কার্যক্রম চলছে।
উপজেলার সান্তাহার–তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে আরোয়া, বাবলু, ডিজিএমসহ পাঁচটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি, ফসল এবং বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বেড়ে গেছে। চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সংবাদ প্রকাশের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যারফলে কর্তৃপক্ষের নজরদারির চরম ব্যর্থতার কারনে ইটভাটাগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এমনটাই বলছেন সচেতন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার–তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরোয়া, বাবলু ও ডিজিএমসহ পাঁচটি ইটভাটা। সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ ও ফসলি জমির একেবারে সন্নিকটে এসব ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরোয়া ইটভাটার স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ হাজী, ডিজিএমের দুটি ইটভাটার দায়িত্বে রয়েছেন মোতালেব হোসেন এবং বাবলু দুইটি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী বাবলু হাজী। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং গোপনে বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। অর্থাৎ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম।
এদিকে ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ। শুধু তাই নয় ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখে তীব্র জ্বালা-পোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে।
দেশজুড়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান জোরদার হলেও আদমদীঘি উপজেলায় রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থেকে ‘উপরমহলে তদবির’ করে বারবার প্রশাসনিক অভিযান প্রতিহত করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ বিষয়ে আরোয়া ইট ভাটার ম্যানেজার আলী হোসেন বলেন, “আজ পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার সাহস কেউ দেখায়নি। আপনারা করছেন। একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করলেও আমাদের ভাটার কিচ্ছু করতে পারবেন না।”
ইতিপূর্বে ডিজিএম ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মোতালেব হোসেন জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর দাবি, পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়নের জন্য ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য নিকটবর্তী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাছাড়া জেলা কার্যালয়ে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই, তাই মোবাইল কোর্টের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।

