আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি:
অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার, সারা বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস। এর পাশাপাশি শুরু হচ্ছে শিশু অধিকার সপ্তাহ। এটি কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়, এটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিজ্ঞা—আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুযোগময় এবং ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশুদের অধিকার ও কল্যাণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই দিবস উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু আজকের এই বিশেষ দিনে, আমাদের ফিরে তাকাতে হবে বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে।
বর্তমান যুগে বাংলাদেশের শিশুরা যেমন শিক্ষার আলোয় উজ্জ্বল হচ্ছে, তেমনি কিছু নতুন চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ছে:
* জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশুরা: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। এতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়, পুষ্টি ও শিক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে। এই সংকট মোকাবিলায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
* ডিজিটাল বিভাজন: ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির সুবিধা সব শিশুর কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। আবার শহুরে শিশুদের জন্য অনলাইন সুরক্ষা ও আসক্তি একটি নতুন সমস্যা। সুস্থ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
* ঝুঁকিপূর্ণ শৈশব: আজও বহু শিশু পথশিশু হিসেবে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে বা অমানবিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে। দারিদ্র্য যেন কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে না পারে, তার জন্য সামাজিক সুরক্ষা জালকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
অঙ্গীকার হোক সার্বজনীন
শিশু দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির সফলতা তার শিশুদের সুস্থ ও সবল বিকাশের ওপর নির্ভরশীল। এই দিনে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে:
* সুরক্ষার অধিকার: প্রতিটি শিশুর প্রতি সহিংসতা ও শোষণ বন্ধ করা এবং তাদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা।
* শিক্ষার সুযোগ: মানসম্মত এবং যুগোপযোগী শিক্ষা সকলের জন্য নিশ্চিত করা।
* মানসিক স্বাস্থ্য: শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া, তাদের উদ্বেগ ও চাপ কমাতে সহায়তা করা।
আজকের এই শুভ দিনে, আমরা প্রতিজ্ঞা করি—আমরা শিশুদের জন্য একটি সমতাভিত্তিক সমাজ তৈরি করব, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও সম্ভাবনা পূর্ণাঙ্গভাবে বিকাশের সুযোগ পাবে। আজকের শিশুই আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক, বিজ্ঞানী, শিল্পী, নেতা ও দেশপ্রেমিক। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ মানেই জাতির আলোকিত পথচলা।

