শহীদুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ”মৃত্তিকা মায়া” নামে জনগণের দোরগোড়ায় ভুমিসেবা পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আল আমিন কবির।
”মৃত্তিকা মায়া” নামে নতুন এই ভুমিসেবায় উপজেলার ১১ ইউনিয়নের জনগণ তাদের ভুমির সমস্যায় ভুক্তভোগিগণ সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আল আমিন কবির সাথে এক টেবিলে বসেই নাগরিকরা সরাসরি ভুমির যে কোন সমস্য নিয়ে সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এমনকি সমাধান ও পরমর্শ পাচ্ছেন। অভিযোগ জানাতে, প্রতি বুধবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পরামর্শ নিতে ও ন্যায়বিচার চাওয়ার জন্য এখন আর বড়কিছু সমস্যা ছাড়া কোট-আদালতে যেতে হচ্ছে না।
গত বুধবার করিমগঞ্জ ভুমি অফিস সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি বুধবার দুপুর ২টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শতাধিক ভুক্তভোগি জড়ো হয়েছেন সেবা নিতে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আল আমিন কবিরও ভূমি সম্পর্কিত যে কোন আইনী পরামর্শ, ভূমি নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনে করনীয় ভূমি সম্পর্কিত সকল সমস্যার সঠিক ও আইনি পরামর্শ প্রদান করছেন। তবে সেবাটি পাওয়ার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে রেজিষ্ট্রেশন করে শুনানীর জন্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে হবে। আর বাদী-বিবাদিগণ তাদের সমস্যার প্রমাণের জন্য সঠিক কাগজপত্র নিয়ে উপস্থাপন করতে হবে।
উপজেলার কদিমাইজহাটি গ্রামের চায়না আক্তার ও হাজেরা আক্তার নামে দুই গৃহবধূ বলেন, আগে ভুমির সমস্যা নিয়ে সমাধান করতে কোট-আদালতে মাসের পর মাস দৌড়াতে কত ঝামেলা হতো। এখন উপজেলায় এসে সহজেই সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাথে কথা বলে তা সমাধান বা পরমর্শ পাওয়া যায়। আমি আমার জমির জমা-খারিজের কথা ও পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়েছি, স্যার খুব সহানুভূতির সঙ্গে শুনেছেন ও সমাধান করে দিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জয়কা ইউনিয়নের বাসিন্দা এ কে নাসিম খান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আল আমিন কবির এর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি উনার সঙ্গে এক টেবিলে বসে ভুমির যে কোন সমস্য সমাধান বা পরমর্শ করতে পারছে এতে জবাবদিহিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি ভুমি সেবার ভাবমূর্তিও ইতিবাচক হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারী কৌশলী (জিপি) ও উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট (সিভিল) মো. জালাল আহম্মেদ গাউস বলেন, এখন সারাদেশে জনগণের মধ্যে জমিজমা নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা। এমন উদ্দ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। কারন আমার জন্মস্থন করিমগঞ্জ উপজেলার লাখো জনগণ এই ভুমিসেবা পাচ্ছেন। এতে বিচারপ্রাপ্তির পথ আরও সহজ হচ্ছে। ধন্যবাদ জানাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আল আমিন কবির কে।
করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আল আমিন কবির বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও দ্রæত ভুমি সেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। এখন গ্রামের সাধারণ মানুষও এক টেবিলে আমার সাথে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারছে আমি ও তা শোনে সমাধানের চেষ্টা করছি। এতে ভুমিসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সারা জেলার মধ্যে করিমগঞ্জই এটি প্রথম ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি আশাবাদী ভূমিসেবা প্রাপ্তিতে দালালদের দৌরাতœ হ্রাস এবং সমস্যা নিরসনে সঠিক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় করিমগঞ্জবাসী উপকৃত হবেন।

