মজিদ জেলা প্রতিনিধি,ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ও এর আশপাশের সরকারি দপ্তরগুলোতে চলছে অফিস ফাঁকির মহোৎসব। অফিস সময়ের মধ্যে নানা অজুহাতে দায়িত্বে অবহেলা, সাইড ভিজিট বা মিটিংয়ের নাম করে অধিকাংশ কর্মকর্তা অফিসে থাকেন না। ফলে জনসাধারণের কাজকর্মে দেখা দিচ্ছে ভোগান্তি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক ভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস, উপজেলা এলজিইডি অফিসসহ প্রায় সব দপ্তরেই দুপুরের পর অধিকাংশ কর্মকর্তা অনুপস্থিত।
সড়ক ভবনের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী জানান,
“সপ্তাহের পাঁচ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে থাকার নিয়ম থাকলেও, দুপুরের পর প্রায় কেউই আর অফিসে ফেরেন না। নামাজ বা খাওয়ার অজুহাতে বের হয়ে যান, তারপর আর আসেন না।”
দুপুর আড়াইটার পর থেকে বিকেল তিনটা ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত জেলা সদরের বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস পরিদর্শনে দেখা যায়, অফিসকক্ষ ফাঁকা, অধিকাংশ কক্ষের দরজা তালাবদ্ধ। কোথাও একজন-দুজন পিয়ন বা অফিস সহকারী থাকলেও কর্মকর্তাদের দেখা মেলেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ইঞ্জিনিয়ার বা কর্মকর্তা উপস্থিত নেই। একজন অফিস সহকারী জানান, “দুজন কর্মকর্তা দুপুরের খাবারের কথা বলে বের হয়েছেন, এখনো ফেরেননি। প্রায় প্রতিদিনই এ অবস্থা।”
এমন চিত্র প্রায় সব দপ্তরেই। সরকারি কর্মঘণ্টা উপেক্ষা করে কর্মকর্তাদের নিয়মিত অনুপস্থিতি এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে প্রতিদিনই পড়ছেন ভোগান্তিতে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানান আমাদের প্রতিনিধি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন,
“সরকারি দপ্তরে নিয়মিত উপস্থিতি ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা বাড়ানো জরুরি।”
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মকর্তারা দায়িত্বে গাফিলতি করলে সেটি শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে না, বরং জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ণ করছে।

