গৌতম কুমার মহন্ত,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে শতবর্ষী অসহায় এক বিধবা তার মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে ধসেপড়া মাটির কুঁড়োঘরে মানবেতর জীবন যাপন করলেও দেখার কেউ নেই।বলছিলাম উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের চকগৌড়ি গ্রামের শতবর্ষী রেনুকা বালা ও তার মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান রঞ্জিত মন্ডলের কথা।ওই গ্রামের একখণ্ড জমির উপর প্রাচীন আমলের তৈরি ধসেপড়া মাটির ঘরের জরাজীর্ণ টিনের চালার ঘর নজর কেড়েছে অনেকেরই।ঝুঁকিপুর্ন এ ঘরে মা রেনুকা বালা ও মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান রঞ্জিত মন্ডল (৭০) বসবাস করছে।ধসেপড়া ঘরের জরাজীর্ণ টিনের চালা দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়া এবং দেয়াল ধসে পড়ে প্রানহনীর আতংকে কাটে তাদের জীবন।স্থানীয়রা জানান,১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে সহায় সম্বলহীন ১১০ বছর বয়সী রেনুকা বালার স্বামী মারা যায়।বৃদ্ধা রেনুকা বালা ও তার সন্তান রঞ্জিত মন্ডল জরাজীর্ণ ওই ঘরে বসবাস করে আসলেও সরকারি অথবা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়নি। বৃদ্ধা রেনুকার মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান রঞ্জিত মন্ডল ও দুই নাতি রয়েছে। তবে নাতীরা খোঁজ রাখেনা তাদের।প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোন রকমে তাদের খেয়ে- না খেয়ে জীবন চলে।বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গেই থাকেন একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তান।বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া অভাব আর অবহেলার নির্মম চক্রে বন্দী এ বৃদ্ধা রেনুকা ও তার একমাত্র সন্তান রঞ্জিতের জীবন।৩০ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় ওই গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় রেনুকা বালার সঙ্গে।শীতের সন্ধ্যায় হিমেল বাতাসে অনেকটায় জবুথবু রেনুকা বালা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,তার এই ধসেপড়া কুঁড়ো ঘরের জায়গায় থাকার মতো একটা ঘর হলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তান রঞ্জিতকে নিয়ে এখানেই থাকতে চান।প্রতিবেশীরা জানান,বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া রেনুকা চলাচল করতে পারেননা।তার ঘরে খাবার থাকলে খায়,না থাকলে অনাহারেই দিন-রাত কেটে যায়।বিগত সরকারের আমলে গৃহহীন পরিবারের জন্য জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনেকেই ঘর পেয়েছে।কিন্ত এই শতবর্ষী বৃদ্ধা রেনুকার ভাগ্যে জোটেনি সেই ঘরও। ওই প্রকল্পে এ অসহায় বৃদ্ধা বিধবা বয়স্ক নারী কেন বসতঘর পেলনা এ বির্তকে যেতে চাইনা,সচেতন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন তিনি কি ওই প্রকল্পের বসতঘর পাওয়ার অধিকার রাখেন।

